চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মাণাধীন ‘বীর নিবাস’ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কাজের ধীরগতি, সময় মতো কাজ শেষ না করা, কোথাও কোথাও কাজ শুরু না হওয়ায় তাদের মধ্যে এ অসন্তোষ দেখা দেয়। কোনো কোনো মুক্তিযোদ্ধা তীব্র শীতে বেকায়দায় আছেন কাজের জন্য ঘর ভেঙে। কাজের মান নিয়েও কথা উঠেছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন মুক্তিযোদ্ধা ও ঠিকাদারদের সঙ্গে উপজেলা অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় করেন। এ সময় ঠিকাদাররা সময় মতো কাজের টাকা না পাওয়ায় কাজে ধীরগতির কথা স্বীকার করে জানান, কোনো কোনো ঠিকাদার পুরো প্যাকেজের ৮০-৯০ ভাগ কাজ শেষ করেও বিল না পাওয়ায় বাকি কাজ করতে আগ্রহ হারিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৯টি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ২২১টি ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ শুরু হয়। প্রতিটি ৩৩ ফুট বাই ২২ ফুট ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। উপজেলায় ২৮ জন ঠিকাদার ঘরগুলো নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পায়। প্রতি ঠিকাদার ৮-৯টি করে (প্যাকেজ) ঘরের কাজ পায়।
জানা গেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর ঘরগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো ঠিকাদার নির্মাণকাজ শুরুই করতে পারেননি। আবার কোনো কোনো ঠিকাদারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও তারা কাজের কোনো বিল (টাকা) পাননি। ফলে কাজের বাকি অংশ শেষ করতে পারছেন না।
মায়ানী ইউনিয়নের সৈদালী এলাকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. মহিউদ্দিন জানান, বীর নিবাস নির্মাণের জন্য প্রায় পাঁচ মাস আগে পুরাতন ঘর ভেঙে জায়গা খালি করে রেখেছেন। কিন্তু ঠিকাদার ঘর নির্মাণের কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। পুরাতন ঘর ভেঙে ফেলায় এই শীতে তারা পুরো পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের তারা কীভাবে বসবাস করছেন তা দেখে আসার জন্য আকুতি জানান। শুধু তার ঘর নয়, মায়ানী ইউনিয়নের ১৪টি ঘরের মধ্যে একটি ঘরেরও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
করেরহাট ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম জানান, তার ঘরের নির্মাণকাজ অর্ধেক করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর ঠিকাদার কোনো কাজ করছেন না।
একই রকম অভিযোগ করেন অন্য মুক্তিযোদ্ধারা।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার কবির আহম্মদ জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঘরের যে নকশা করা হয়েছে তা সন্তোষজনক নয়। ঘরের ছাদের কোনো কার্নিশ রাখা হয়নি। ফলে বর্ষায় বৃষ্টির পানি ঘরের দেয়াল বেয়ে পড়ে ঘরে পানি প্রবেশ করতে পারে।
তিনি ঠিকাদারদের বিল না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঠিকাদাররা বিল না পেলে কাজ করবে কীভাবে? ঠিকাদারদের বিল দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করেন। না হলে চলতি জানুয়ারি মাস শেষ হলে ফেব্রুয়ারিতে তারা আন্দোলনে যাবেন বলে ঘোষণা দেন।
মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজা জেরিন ঘরগুলোর নির্মাণকাজ যাতে দ্রুত শেষ করা যায় সে বিষয়ে ঠিকাদারসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
