কালিয়াকৈরে ত্রাণের নামে প্রতারণা

আ.লীগের ৪ নেতার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকচক্র

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:২৯ এএম

গাজীপুর জেলা পরিষদ থেকে কালিয়াকৈর পৌর এলাকায় ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে ফরম পূরণ ও আবেদন ফি বাবদ বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারকচক্র। এ ঘটনায় গত রবিবার ওই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারেক বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

প্রতারণার শিকার আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, গাজীপুর জেলা পরিষদের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামুন নামের এক ব্যক্তি কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সরকার মোশারফ হোসেনের কাছে গত বৃহস্পতিবার ফোন করেন। তার কাছে কয়েক শ দরিদ্র মানুষকে বিনা শর্তে ৪ হাজার ২০০ টাকা, ৩০ কেজি চাল, ৫ কেজি ডাল, ৫ কেজি সয়াবিন তেল ও একটি কম্বল দেওয়া হবে বলে জানায়। এ জন্য তার কাছে পৌর এলাকার দরিদ্র মানুষের তালিকা চায়। তবে সরকার মোশারফ হোসেন পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে যোগযোগ করার জন্য বলেন। পরে সেই মামুন পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ত্রাণের টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী দেওয়ার কথা বলে ফরম ও এন্ট্রি ফি বাবদ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ সরকারের কাছ থেকে ২১ হাজার, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আলামিন হোসেনের কাছ থেকে ২১ হাজার, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ আলীর কাছ থেকে ২১ হাজার ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারেকের কাছ থেকে ৭১ হাজার টাকা বিকাশ ও নগদের দুটি অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করেন।

এভাবে ওই চারজনের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা নেওয়ার পর মোবাইল নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারেক বাদী হয়ে অজ্ঞাত প্রতারকচক্র ও তাদের ব্যবহৃত দুটি নম্বর উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করেন।

প্রতারণার শিকার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ সরকার বলেন, ‘গাজীপুর জেলা পরিষদের কথা বলে দরিদ্র মানুষকে নগদ টাকা, চাল, ডাল, তেল ও কম্বল দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রথমে মানুষের নামের তালিকা ফোনে চাওয়া হয়। এরপর তাদের ফরম ও অফিস খরচ বাবদ সাত শ টাকা করে দাবি করে। আমি ৫০ জনের জন্য মোট ২১ হাজার টাকা বিকাশে দেওয়ার কিছু সময় পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাই। পরে বুঝতে পারি এটা প্রতারণা।’

অভিযোগকারী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারেক বলেন, ‘অন্যরা ২১ হাজার করে টাকা দিয়েছে। কিন্তু আমার এলাকায় দরিদ্র মানুষ একটু বেশি, তাই আমি ১০০ জনের জন্য ৭১ হাজার টাকা দিয়েছিলাম।’ কালিয়াকৈর থানার ওসি আকবর আলী খান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত এবং প্রতারকচক্রকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত