ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় মায়ের জানাজা পড়ানো আলোচিত বিএনপি নেতা আলী আজম জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর তার বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীসহ উৎসুক মানুষ ভিড় করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বোয়ালী ইউনিয়নের গাছবাড়ি পাবুরিয়াচালা গ্রামের বাড়িতে তাকে দেখতে বহু মানুষ জমায়েত হয়। যদিও আগামী ১৫ ডিসেম্বর আলী আজমের আদালতে হাজিরা দেওয়ার দিন নির্ধারিত রয়েছে।
এদিকে মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আলী আজম। পুলিশের সমালোচনা করে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় আমাকে যখন পুলিশ গ্রেপ্তার করে, তখন মা ও গিন্নীর সঙ্গে একটু দেখা ও কথা বলতে চাইলেও তারা তা দেয়নি। তাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে দিলে হয়তো আমার মা আজ বেঁচে থাকতেন।’
কারাজীবনকে নতুন অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘জীবনে কখনো জেলে যাইনি। রাজনীতি করার কারণে মিথ্যা মামলায় আমাকে প্রায় দেড় মাস কারাবরণ করতে হয়েছে। জেলে গিয়ে আমি আমার মাকে হারিয়েছি। মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি বা বড় কোনো অপরাধী না হয়েও ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় মায়ের জানাজা পড়তে হয় আমাকে।’
এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমে নিউজ প্রকাশের পর সারা দেশে আমার কথা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মানবাধিকারসহ বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠন আমাকে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসে।’
গাজীপুরের জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আলী আজম আরও বলেন, ‘তিনি (ডিসি) প্যারোলে মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন বলেই শেষবারের মতো আমার মায়ের মুখ দেখেছি, তার জানাজা পড়ানোর সুযোগ পেয়েছি।’
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বোয়ালী গ্রামের উম্মত আলীর ছেলে আলী আজম বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে হওয়া মামলায় প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর গত বুধবার জামিনে কারামুক্ত হন তিনি।
