অর্ধেকের কম জনবল নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের একমাত্র লোকোমেটিভ জেনারেল ওভারহোলিং (জিওএইচ) কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা)।
ছয় বছর পরপর বাংলাদেশ রেলওয়েতে সংযুক্ত প্রতিটি ইঞ্জিনের ভারী মেরামত ও দুর্ঘটনায়কবলিত, ত্রুটিযুক্ত রেল ইঞ্জিনের বিশেষ মেরামতের মাধ্যমে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করে পুনরায় রেল বহরে সংযুক্ত করতে কাজ করা হয় এ কারখানায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ জনবলের অভাবে প্রতি বছর ইঞ্জিন মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, কারখানায় যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং স্টোরসহ ১১টি বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগের বরাদ্দ মোট জনবলের সংখ্যা ৭১০ জন। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬৫ জন। কারখানার মূল যান্ত্রিক বিভাগে ৫৪৫ মঞ্জুরির বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২০৪ জন। ফিটারে ৬০ জনের স্থলে ২৫ জন, এসএস ফিটারে ৬২ জনের স্থলে ১ জন, এসএস ইলেকট্রিকের ৩০ জনের স্থলে ২ জন, এসএস মেসিনিস্ট ১৪ জনের স্থলে ১ জন, এমএম ড্রাইভার ৮ জনের স্থলে ১ জন আছেন। এসএস পেইন্টার ও কামারশালায় সব পদই শূন্য।
ইতিমধ্যেই ৫ বছরে মোট ১৫০ জন দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিদায় নিয়েছেন। এ অবস্থায় অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এ কারখানার কার্যক্রম। এতে ইঞ্জিন মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় কাক্সিক্ষত সেবা দিতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের (জেনারেল ওভারহোলিং) লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২টি। ভারী মেরামত শেষে আউটটার্ন করা হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯টি। দেশে চলমান যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনে ব্যবহৃত প্রতিটি ইঞ্জিন ছয় বছর পরপর পূর্বনির্ধারিত শিডিউল মোতাবেক জেনারেল ওভারহোলিং বা ভারী মেরামত করতে হয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত ইঞ্জিনের বিশেষ মেরামত করা হয়। এভাবে এ কারখানা সারা দেশের রেলযোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখে।
কারখানার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ ও দক্ষ জনবলের অভাবে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে শূন্য পদে নিয়োগ অতি জরুরি। দেশের বাইরে অবস্থান করায় পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার প্রধান নির্বাহী (সিএক্স) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
