মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যেন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে এমন পরামর্শ দিয়েছেন গণমাধ্যমের বিশিষ্টজনরা। তারা আরও বলেছেন, কমিশনকে সাহসের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাদের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হতে হবে। গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরা বিতর্কিত আইন ও সাংবাদিক নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কমিশনের আরও সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমানুষের প্রত্যাশা : গণমাধ্যম ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সমন্বিত প্রয়াস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গণমাধ্যমের বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে কমিশনের কার্যক্রমে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।
এতে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠী জানেই না মানবাধিকার কী। কীভাবে প্রতিকার মিলবে। তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘কমিশন বলছে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন চান কিন্তু পান না। যে প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন দেয় না তাদের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া উচিত।’
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘কমিশন শুধু সুপারিশ করে। কিন্তু এই সুপারিশের ফল কী তা আর জানা যায় না। ঘটনার পর পরিদর্শন যদি সুপারিশ হয় তাহলে ধরে নেব কমিশনের আসলে কিছুই করার নেই।’
বার্তা সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন যদি তাদের কাজটা ঠিকভাবে করত তাহলে অন্য কোনো দেশ আমাদের কোনো বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারত না।’
দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু মানবাধিকার কমিশনের উদ্দেশে বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ কিছু আইন এমনভাবে চেপে বসেছে যে গণমাধ্যম কতটুকু চাপে থাকে তা সহজেই অনুমেয়। আপনারা অঘোষিত গ্রেপ্তার, গুম, কাস্টডিতে নির্যাতন ও মৃত্যুর নিয়ে কাজ করেন। আমরা কমিশনকে সহযোগিতা করব।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাট্যব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, অনলাইন পোর্টাল এবি নিউজ ২৪. কমের প্রধান সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায় প্রমুখ।
