মাদারীপুরে খেলা নিয়ে সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ আহত ১৫

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৪১ এএম

মাদারীপুরে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই কিশোরের তর্কের জের ধরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার নয়াচর-মধ্য খাগদীর সীমান্তবর্তী আব্দুল মন্নান সেতুর কাছে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের  ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে সাতজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল কাশেম (৩৪), চরমুগরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. রোমান (৩৩) সদর থানার কনস্টেবল মো. সাগর (২৫), নয়াচর এলাকার সাব্বির খাঁ (২৪), জয়নাল মুনশি (২৩), রাজু মোল্লা (২০), আল-আমিন (২৫)।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন, মিঠু মোল্লা (২৫), রাসেল মোল্লা (২১), রাসেদ মোল্লা (১৮), হৃদয় মীর (১৪) এবং অনিক চৌকিদার (১৩)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মধ্য খাগদী এলাকার টিটু খানের ছেলে মনা খানের সঙ্গে নয়াচর এলাকার কুদ্দুস ফরাজির ছেলে ফরিদ ফরাজির কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এর জেরে রাতে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আব্দুল মন্নান সেতুর দুই প্রান্তে অবস্থান নেয় পুলিশ। পরে ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জনকে জেলা সদর হাসপাতল ও বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে সদর হাসপাতাল থেকে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা রিয়াদ মাহমুদ বলেন, মারামারির ঘটনায় আহত দুজন সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। এর মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাঁধন মজুমদার বলেন, সেতুর দুই প্রান্তে দুই গ্রামের মানুষ জড়ো হয়। প্রথমে কিশোররা মারামারি করলেও পরে যুবকরাও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ঘটনার পর থেকে দুপক্ষের কয়েকজনের মোবাইল ফোনে কল করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

হামলায় আহত চরমুগরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. রোমান বলেন, ফুটবল খেলা নিয়ে মনা খান নামে এক কিশোরকে মারধরকে কেন্দ্র করেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত। প্রথমে আমরা দুপক্ষের লোকজনকে সেতুর দুপাড় থেকে সরিয়ে দিই। পরে সেতুর দুই প্রান্তেই অসংখ্য লোক জড়ো হয়ে হটপাটকেল ছোড়া শুরু করে। পুলিশ ফাঁকাগুলি ও টিয়ারগ্যাস শেল ছুড়ে, লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, দুপক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে। ওই এলাকায় ফের সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি আপতত স্বাভাবিক। তবে সংঘর্ষের মূলে যারা রয়েছে তাদের ধরতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত