সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নারায়ণগঞ্জ শহরজুড়ে ইজিবাইকের নৈরাজ্য

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:১৯ এএম

নারায়ণগঞ্জ শহরের বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচলে অতিষ্ঠ নগরবাসী। কিছুদিন পূর্বেও শহরের প্রধান সড়কে প্রবেশ করতে পারত না এসব ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। বর্তমানে অবাধে পুরো শহর দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে শহর ও শহরতলীতে। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে সড়কে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ ইজিবাইকের স্ট্যান্ড তৈরি করে স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের দাবি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের মতো যানবাহনের কোনো কাগজপত্র না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ইজিবাইকের ব্যাপারে সিটি করপোরেশনও নীরব ভূমিকা পালন করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়ক, দুই নম্বর রেলগেট, চাষাঢ়া চত্বরজুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে ইজিবাইকের কারণে। গ্রিন সুপার মার্কেট, সোনার বাংলা মার্কেটের সামনের বঙ্গবন্ধু সড়কে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইজিবাইক স্ট্যান্ড। সড়কের মাঝ থেকেই উঠানো হচ্ছে যাত্রী। দুই নম্বর রেলগেট চত্বরে একাধিক ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অবাধে ইজিবাইক প্রবেশ করছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শহরে ইজিবাইক প্রবেশের ওপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হলেও টাকার বিনিময়ে অবাধে শহরে ঢুকছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সড়কে পুলিশের চেকপোস্ট বসতে দেখা যায়। তবে এগুলোকে আইওয়াশ বলে মনে করছে নগরবাসী। আবার বেশকিছু ইজিবাইক কতিপয় ভুঁইফোঁড় অনলাইন ও স্থানীয় পত্রিকার স্টিকার লাগিয়ে দেদার চলাচল করছে।

অভিযোগ রয়েছে, গোটা শহরে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী ইন্দ্রজিৎ, রায়হান ও রাসেল নামের তিন ব্যক্তি। এরা প্রশাসন ও কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের মাসোহারা দিয়ে অবাধে ইজিবাইক চালিয়ে পুরো শহরকে জিম্মি করে রেখেছে।

নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন ইজিবাইক চালক জানান, এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা করে মাসোহারা দিলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর যেকোনো এলাকায় প্রবেশ করা যায়। যেসব ইজিবাইকের মালিকরা মাসোহারা দেন, তাদের অনলাইন পোর্টাল বা পত্রিকার নামে বিশেষ প্রেস লেখা স্টিকার ও টোকেন দেওয়া হয়। স্টিকার লাগানো ইজিবাইক পুলিশ আটকায় না। কিন্তু নিয়মিত মাসোহারার স্টিকার না থাকলে সেসব ইজিবাইক আটকে জরিমানা আদায় করে ট্রাফিক পুলিশ।

চাঁদা আদায়ের বিষয়ে জানতে ইন্দ্রজিৎকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।

এ বিষয়ে নারায়নগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তথাকথিত মিডিয়ার স্টিকার ব্যবহার করে ইজিবাইক চলাচল দুঃখজনক। এ ব্যাপারে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহান সরকার বলেন, ‘বিভিন্ন মিডিয়ার নাম সংবলিত স্টিকার লাগানো বা স্টিকার ছাড়া কোনো ইজিবাইকই শহরে প্রবেশের অনুমতি নেই। যদিও সেগুলো প্রবেশ করে। তবে আমরা সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আর চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেনি। অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নগরীতে অবৈধ ইজিবাইকের কারণে যানজট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি কতিপয় অনলাইন ও পত্রিকার স্টিকার ব্যবহার করে ইজিবাইক চলাচলের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইজিবাইক চলাচলের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযানে আমরা ইজিবাইক আটক করছি।’ চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি একটি নিয়মিত অপরাধ। এ বিষয় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত