সংরক্ষণের অভাবে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:২১ এএম

স্বাধীনতার ৫২ বছর কেটে গেলেও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর ও গণকবরগুলো সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এগুলো ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। কবরগুলো সংরক্ষণের দাবি এলাকাবাসী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের।

স্থানীয়রা জানান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এ উপজেলায় সম্মুখযুদ্ধে ৩৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাদের অনেকের বাড়ি এ উপজেলায় না হওয়ায় সমাহিত হয়েছেন গণকবরে। একাত্তরের ৩ এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসংলগ্ন উপজেলার গোড়ান-সাটিয়াচড়া গ্রামে যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশিত স্মরণিকার তথ্যমতে, যুদ্ধে অংশ নেওয়া ৩৫ জন ইপিআর সদস্যের মধ্যে ২৯ জনই শহীদ হন। তাদের ২৪ জনের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গোড়ান গ্রামে হামিদ খান ও সিরাজ তালুকদারের বাড়ির পাশের খাদসহ বিভিন্ন স্থানে কবর দেওয়া হয়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বদরে আলম ফারুক বলেন, হামিদ খানের বাড়ির পাশের কবর স্বাধীনতার পরেই ইট দিয়ে প্রাচীর করে দেওয়া হয়। কিন্তু পরে কবরগুলো সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা মনসুর মিয়া জানান, শহীদদের কবরগুলোর কোনোটার ওপর বাড়ি-ঘর নির্মিত হয়েছে। আবার কোনোটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা সদরের বাইমহাটী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান জানান, বারখালি খালের পূর্ব পাশে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে জাহাঙ্গীর নামে তার এক সহযোদ্ধা শহীদ হন। তাকে উপজেলার বহুরিয়া বাজারের পাশে কবর দেওয়া হয়। কবরটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে প্রায় দুই যুগ আগে ইট দিয়ে চারদিকে প্রাচীর দেওয়া হলেও সংরক্ষণের অভাবে জড়াজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া একাত্তরের ৩০ অক্টোবর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে সম্মুখ যুদ্ধে তিন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তারা হলেন আবদুর রশিদ, মোশারফ হোসেন ও আহাম্মদ আলী। ঠিকানা না জানায় রশিদ ও মোশারফকে ওই এলাকার সোনালিয়া নামক স্থানে এক কবরে সমাহিত করা হয়। এ তথ্য জানান ওই যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা আছান মিয়া ও পাঁচগাঁও গ্রামের ইয়াকুব আলী। ওই দুই মুক্তিযোদ্ধার কবর ২০১৫ সালের দিকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁধাই করা হয়। কিন্তু দেখভালের অভাবে তা জঙ্গলে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক আতাউল গণি বলেন, ‘মির্জাপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলোর অবস্থা সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। তবে এসব কবর সংরক্ষণের কাজ গণপূর্ত ও স্থানীয় সরকার বিভাগ করে থাকে। ওই দুই বিভাগের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে অবহিত করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত