সৌদি থেকে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে দেশে নাজমা

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:২১ এএম

পরিবারে সুখ ফেরাতে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নাজমা বেগম (৩০)। তাকে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় তাকে। আরবিরা বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিলে তা না রাখলে তার ওপর চালানো হতো পাশবিক নির্যাতন। পরে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় গত ২ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন। সৌদি আরব থেকে ফিরে নিজের ওপর নৃশংস নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন নাজমা। নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মূর্ছা যান তিনি। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া নাজমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে নির্যাতনের চিহ্ন। নাজমা কুলাউড়া পৌরসভার দক্ষিণ চাতলগাঁও গ্রামের মো. আলমের স্ত্রী। তিনি জানান, কুলাউড়া পৌরসভার জগন্নাথপুর গ্রামের সিতার মিয়া (৫৫) তাকে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য তার পরিবারকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। তার পরিবার সিতার মিয়াকে বারবার নিষেধ করলেও পরিবারকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ম্যানেজ করে ফেলেন। পরে তার পরিবার তাকে সৌদি পাঠাতে সম্মত হয়। ২০২২ সালের ৪ আগস্ট

ঢাকার ফকিরাপুলে অবস্থিত ইস্টার্ন ট্রাভেলসের মাধ্যমে তাকে সৌদি আরব পাঠান সিতার মিয়া। ৫ আগস্ট তিনি সেখানে পৌঁছলে তাকে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে দেওয়ার কথা বলে তার ওপর বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরিবারের সঙ্গে তার তিন মাস যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। একপর্যায়ে বিষয়টি তিনি তার পরিবারের কাছে জানান। পরে তার মা রাবেয়া বেগম সিতার মিয়াকে দ্রুত নাজমাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেন।

তবে সিতার মিয়ার দাবি, নাজমাকে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য তিনি শুধু ঢাকার ইস্টার্ন ট্রাভেলসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। পরে সেই ট্রাভেলসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে সৌদিতে পাঠানো হয়েছে। এরপর তিনি আর কিছু বলতে পারেন না।

ইউএনও মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, নাজমার মা  বিষয়টি জানানোর পর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে তাকে দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত