শরণার্থীবান্ধব মেরকেলের ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:২৯ এএম

সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া সংঘাত থেকে প্রাণে বেঁচে, নতুন জীবনের আশায় ইউরোপে ছুটে আসা লাখো শরণার্থীর জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। শরণার্থীদের জন্য উদার নীতিমালা প্রণয়নের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি। এবার মানবতার প্রতি তার এ অবদানের স্বীকৃতি দিচ্ছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। মেরকেল এবার পাচ্ছেন ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের রাজধানী ইয়ামোসুক্রোয় স্থানীয় সময় বুধবার তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেবে ইউনেস্কো বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। ইউনেস্কোর সহায়তায় আইভরি কোস্টের ফেলিক্স হুফেত বোনি ফাউন্ডেশন এ পুরস্কার দিচ্ছে। ‘ফেলিক্স হুফেত বোনি পুরস্কার ২০২২’-এর বিজয়ী হিসেবে ১ লাখ ৪০ হাজার ইউরো, একটি স্বর্ণপদক ও ইউনেস্কোর মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত একটি সনদপত্র পাবেন মেরকেল। ২০১৫ সালে শরণার্থীদের গ্রহণ করতে মেরকেলের ‘আমরা পারব’ সেøাগান তখন প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোই কুড়িয়েছিল।

২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য ডেনিস মুকওয়েগে বলেন, ‘২০১৫ সালে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও ইরিত্রিয়ার প্রায় ১২ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার যে সাহসী সিদ্ধান্ত মেরকেল নিয়েছিলেন, তা জুরি বোর্ডের সব সদস্যেরই মন ছুঁয়ে গেছে। তিনি ঐতিহাসিক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’ তার প্রশংসা করে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অদ্রে আজৌলে বলেন, ‘তার (মেরকেল) প্রচেষ্টা দুর্ভোগের শিকার মানুষের জন্য সুযোগ খুলে দিয়েছে। শরণার্থীদের প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, এ পুরস্কার দেওয়ার ব্যাপারে জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত আমাদের তাই দেখিয়ে দিচ্ছে।’

১৯৯১ সাল থেকে ফেলিক্স হুফেত বোনি শান্তি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৮৯ সালে আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট হুফেত বোনির নামে এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। ১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে নেলসন ম্যান্ডেলা ও ফ্রেডেরিক উইলেম ডি ক্লার্ককে প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত