জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জিএসআই) জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো লিথিয়ামের খনির সন্ধান পেয়েছে তারা। জম্মু ও কাশ্মীরে লিথিয়ামের ৫৯ লাখ টন অনুমিত মজুদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে জিএসআই। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত তাদের প্রয়োজনীয় মূল খনিজগুলোর সরবরাহ জোরদার করার চেষ্টা করছে, এসব খনিজের মধ্যে লিথিয়াম অন্যতম। দেখতে রুপালি সাদা নরম ধাতু লিথিয়াম বৈদ্যুতিক গাড়ি ও মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত ব্যাটারির একটি মূল উপাদান। এ ধাতুর মজুদের সন্ধান পাওয়ায় ভারতে ব্যাটারিশিল্পে নতুন ঢেউ লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলার সালাল-হাইমানা এলাকায় এসব লিথিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে ভারতের খনি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এর পাশপাশি জম্মু ও কাশ্মীর, অন্ধ্র প্রদেশ, ছত্তিশগড়, গুজরাট, ঝাড়খন্ড, কর্নাটক, মধ্য প্রদেশ, ওড়িশা, রাজস্থান, তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানাতে পাঁচটি সোনার খনিসহ পটাশ, মলিবডেনাম ও অন্যান্য মৌল ধাতুর সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তারা।
দেশটির ব্যবসায়ীদের বরাতে আনন্দবাজার বলছে, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ লিথিয়ামের সন্ধান নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এর ফলে দেশে ব্যাটারিশিল্পে নবজোয়ার আসতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং মোবাইল ফোনের মতো যন্ত্রের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ভারতে যেহেতু এতদিন লিথিয়াম পাওয়া যেত না, তাই এর জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। যা ছিল ব্যয়সাপেক্ষ। কিন্তু এবার দেশটির সরকার আশা করছে, লিথিয়ামের হদিস পাওয়ায় ব্যাটারি তৈরির ব্যয় যেমন কমবে, তেমনই আত্মনির্ভর হবে দেশ।
বর্তমানে দূষণ মোকাবিলায় বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকেছেন নাগরিকদের বড় অংশ। এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতে যে পরিমাণে লিথিয়াম পাওয়া গেল, তাতে আগামী দিনে দেশে ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন আরও বাড়বে। তাদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। তাই লিথিয়ামের সন্ধান পাওয়ায় এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল বলেই মনে করছেন তারা।
ভারতীয় রেলওয়ের জন্য কয়লার মজুদের খোঁজ করতে ১৮৫১ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জিএসআই) প্রতিষ্ঠা করেছিল।
