পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই রয়েছে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, আদিবাসীদের বসবাস। যেমন বাংলাদেশের বম, মারমা, চাকমা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি, নিউজিল্যান্ডের মাউরি গোষ্ঠী। সংখ্যাগত কারণ এবং জাতীয়তাবাদী ধারণার ওপর চলা রাজনৈতিক ধারায় প্রায় সব দেশেই আদিবাসী ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলো অস্তিত্বের সংকটে থাকে। এই সংকট সবচেয়ে বেশি ভাষার বেলায়। নানা কারণে অস্তিত্ব সংকটে থাকা আদিবাসী-ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগুলোর ভাষা রয়েছে সবচেয়ে সংকটে। ২০১৬ সালেই জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল এরকম অস্তিত্ব সংকট চলতে থাকলে ২১০০ সালের দিকে পৃথিবী থেকে অন্তত ৭ হাজার আদিবাসী ভাষা হারিয়ে যেতে পারে।
এখনই সব ধরনের সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীদের ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফার্নান্দ ডি ভারেনেস।
তিনি বলেন, ‘জ্ঞান, স্মৃতি ও ইতিহাস ভাগাভাগির জন্য অপরিহার্য হাতিয়ার ভাষা। এটি সম্পূর্ণ এবং সমান অংশগ্রহণেরও চাবিকাঠি। সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ক্ষমতায়নের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিক্ষায় তাদের ভাষা ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং সেই ভাষাগুলোতে সরকারি সেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করা।
গেল সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে ভারেনেস বলেন, সংখ্যালঘু এবং আদিবাসী উভয়ের জন্য ভাষার অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারের বিষয়।’
জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের কথায়, শিক্ষায় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভাষার ব্যবহার কমানো বা বাদ দেওয়ার পরিবর্তে রাষ্ট্রগুলোকে শিক্ষার উপকরণের উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষার প্রচার-প্রসারে আন্তরিক হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী চিন্তায় সমাজ ও রাষ্ট্রে মাত্র একটি ভাষা থাকা উচিত! ভাষাগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের সঙ্গে এটি অসংগতিপূর্ণ। তাই বৈশ্বিক ভাষাগত সমৃদ্ধি ও সৌন্দর্য উদযাপনের জন্য এই ধারণা পরিহার করা আবশ্যক।’
