মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বুধবার সকালে (২২ ফেব্রুয়ারি) ট্রেন থামিয়ে হরিণ জবাই করে ট্রেনে তোলার ছবি ও ভিডিও দেখে রেলওয়ের দুই কর্মচারীর পরিচয় সনাক্ত হয়। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে আটক করা হয়নি।
এদিকে হরিণ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেউ আটক না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পরিবেশবাদীরাও।
জানা যায়, লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতরে ধীরগতিতে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলকালে একটি মায়া হরিণ আহত হয়। চালক চলন্ত ট্রেন থামিয়ে রেলকর্মীদের সহযোগিতায় আহত হরিণটি উদ্ধার না করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে ট্রেনে তুলে নিয়ে যান। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার পুলিশ ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে বস্তা বন্দী হরিণটি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার মিত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা বিষয়টি নজর রাখছি। ঘটনার দিন মৃত হরিনটি উদ্ধার করতে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় আমাদের লোকজন গেলে প্রথমে সময়ক্ষেপন করে তারা। পরবর্তীতে হরিণটি আমাদের কর্মীরা তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে। কিন্তু ঘটনার দিন থেকেই রেলওয়ে পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সালেহ সোহেল বলেন, ভিডিও দেখে বোঝা যায় রেলওয়ের চালক থেকে শুরু করে একাধিক কর্মচারী হরিণ জবাই করে নিয়ে যাওয়ার সাথে জড়িত রয়েছেন। জড়িতদের এখন পর্যন্ত আটক না করায় নানা প্রশ্ন জন্ম দিচ্ছে।তিনি বলেন,বন বিভাগের নিজস্বভাবে মামলা করা উচিত।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, হরিণ হত্যার ঘটনায় বন বিভাগ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। ডায়েরিটি আদালতে পাঠিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা পেলে মামলা নিব।