সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তুলা গবেষণা কেন্দ্রের শতাধিক গাছ পচছে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩, ০৬:২৬ এএম

সরকারি গবেষণা কেন্দ্রে তিন হাজার আম-কাঁঠালগাছের বিশাল বাগান। এখানে প্রায় শত বছরের পুরনো গাছও রয়েছে। বছরে কয়েক লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হয় এ বাগান থেকে। পাওয়া যায় কয়েক হাজার মণ জ¦ালানি কাঠ। তবে অবহেলা আর অনাদরে বছরের পর বছর ধরে এ বাগানের বিশাল আকৃতির আম-কাঁঠালগাছ মরছে দেদার। বাগানটি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তুলা গবেষণা কেন্দ্রে অবস্থিত।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, বড় বড় গাছ মরে মাটিতে পড়ে পচছে দিনের পর দিন; যা খাচ্ছে ঘুন আর উইপোকা। এতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার। তবে এমন ক্ষতি হলেও চিঠিতেই আটকে আছে গাছ কাটার অনুমতি কা-। আর দায়িত্বশীল কর্তারা এ ব্যাপারে একেবারে চুপ।

তুলা গবেষণা কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক শ একরের তুলা গবেষণা কেন্দ্রের চারপাশেই আম-কাঁঠালের বিশাল বাগান। তুলাগাছের ভিড়ে সবার নজর কাড়ে বিশাল আকারের আম-কাঁঠালের গাছগুলো।

এর মধ্যে কাঁঠালগাছের সংখ্যাই বেশি। এখানে এমনও বড় কাঁঠালগাছ রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য লাখ টাকার বেশি। তবে এমন বেশ কিছু বড় বড় কাঁঠালগাছ অন্তত ১০ বছর ধরে মরে পড়ে আছে মাটিতে। এরই মধ্যে কোনো কোনো গাছের ৭০-৮০ শতাংশ ঘুন আর উইপোকা খেয়ে ফেলেছে। বহু গাছ পচে মাটিতে মিশে গেছে পড়ে থাকতে থাকতে। এ সুযোগে আশপাশের মানুষ জ্বালানির জন্য কৌশলে মরা গাছের অংশ নিয়ে যাচ্ছে বাসাবাড়িতে।

মাঠের ভেতর দিয়ে যাওয়া নতুন বাজার-শ্রীপুর সড়কের পশ্চিম প্রান্ত থেকে শুরু করে পূর্ব দিকে মাধখলা পর্যন্ত বেশ কিছু বিশাল আকারের বয়সী কাঁঠালগাছ কঙ্কালসার হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গাছগুলোর কান্ডে ছাল-বাকল কিছুই নেই। এ ছাড়া তুলা উন্নয়ন বোর্ডের গবেষণা মাঠের প্রতিটি গলিতে পচন ধরা কাঁঠাল ও আমগাছ দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, এই গবেষণাকেন্দ্রে বিভিন্ন প্রজাতির তিন হাজারের বেশি ছোট-বড় গাছ রয়েছে।

ফার্মের বেশ কটি সূত্র জানিয়েছে, তুলা গবেষণা কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১২০টি গাছ এখনো মরে পড়ে আছে। এর মধ্যে ১০৪টি বড় আকারের মূল্যবান গাছ কাটার জন্য আবেদন করা হয় জেলা প্রশাসনের কাছে। তবে এখনো অনুমতি মেলেনি।

তারা আরও জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি জায়গার গাছে হাত দিলেই সর্বনাশ। পচে গেলে সমস্যা নেই, কিন্তু যথাযথ অনুমতি ছাড়া কাজে লাগালে সোজা জেল।

এ বিষয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মামুনুল করিম জানান, অনেক দিন আগে আবেদন করা হয়েছিল। এরপর তারা আর যোগাযোগ করেনি।

এতে বিষয়টি আড়ালে পড়ে গেছে।

স্থানীয় পরিবেশ আন্দোলন ও মানবাধিকারকর্মী খোরশেদ আলম বলেন, ‘এগুলো কেটে সেখানে নতুন করে গাছ রোপণের ব্যবস্থা করা উচিত।’

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকার্তা (কটন অ্যাগ্রোনমিস্ট) আবদুল ওহাব প্রথম বলেন, ‘তুলা গবেষণা কেন্দ্রের ১০৪টি গাছ মরে নষ্ট হচ্ছে। অনুমতি দিলেই গাছগুলো কেটে ফেলব। এরপর প্রয়োজনমতো চারা রোপণ করা হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত