সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৪৯৯ কোটি টাকার প্রকল্পের সমীক্ষা প্রকাশ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৩, ০৫:৩৬ এএম

দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের উজানে খনন ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি স¤পদের সংরক্ষণ ও যথার্থ ব্যবহার এবং কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা নদীর বাম তীর সংরক্ষণকাজের জন্য ৪৯৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এর সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজসংলগ্ন অবসর রেস্ট হাউজ সম্মেলন কক্ষে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে এবং নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহায়তায় এই  সমীক্ষা প্রকাশে দিনব্যাপী মতবিনিময় সভার আয়োজন ছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার।

পাউবোর উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মাহাবুবর রহমানের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত সমীক্ষায় জানানো হয়, তিস্তা বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর অন্যতম। নদীটির বাংলাদেশ অংশের উজানে খনন না হওয়ার কারণে কয়েক দশক ধরে পলি জমে এর পানি ধারণক্ষমতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা সামান্য পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ব্যারাজের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে, যা তিস্তা ব্যারাজের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা শুকিয়ে যায়। তাই তিস্তা সেচ প্রকল্পে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ২০২১ সালের ৪ মে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ অভ্যন্তরে তিস্তা ব্যারাজের উজানে তিস্তা নদীর ১৬ কিলোমিটার এলাকা খনন করার জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে আলাদাভাবে একটি প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারে নির্দেশনা দেন।

পাশাপাশি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার গতিয়াশাম ৩ কিলোমিটার ও বগুড়াপাড়ায় ১৬ কিলোমিটার  নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ওই এলাকার তিস্তা নদীর বাম তীরের সমীক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে পাউবো তিস্তা ব্যারাজের উজানে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি সম্পদের সংরক্ষণ ও বুদ্ধিদ্দীপ্ত ব্যবহার এবং কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর বাম তীর সংরক্ষণকাজের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয়, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পানি স¤পদ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। সম্ভাব্যতা সমীক্ষাটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শেষ করে ওই প্রকল্পটি ৪৯৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, প্রকল্পটি থাকবে তিস্তা ব্যারাজের উজানে তিস্তা নদীতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি সম্পদের সংরক্ষণ, জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে তিস্তা নদীর কমান্ড এরিয়ার আওতাধীন কয়েকটি নদীর পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রকল্প এলাকার নদীগুলোর পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ করা। এটি বাস্তবায়িত হলে  ভূগর্ভস্থ পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিপণ্য, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশগত উন্নয়ন সাধন, ফিজিক্যাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে তিস্তা নদীর প্রধান গতিপথ শনাক্ত করা। লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার গতিয়াশয় ও বগুড়াপাড়া এলাকার ভাঙন রোধ করা গেলে ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিং, ফিজিক্যাল মডেলিং এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত