মৌলভীবাজারে বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় পুলিশের বাধায় শহরের প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করতে পারেননি জেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা। বাধার মুখে তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব কারাবন্দি নেতাকর্মীর মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা শহরে গতকাল এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপি।
বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৌলভীবাজারে গতকাল দুপুরে বিএনপি নেতাকর্মীরা মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। দুপুর ১টার দিকে নেতাকর্মীরা মানববন্ধনের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব জসিম তালুকদারসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের প্রায় ২০ জন আহত হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচজন আহত হন। এ সময় দুটি গাড়িও ভাঙচুর করা করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি মিজানুর রহমান মিজান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানববন্ধনের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালান।’
মানববন্ধনের প্রধান অতিথি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল। সেখানে উপস্থিত হতেই ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা লাঠি ও চাকু নিয়ে হামলা চালান। এ সময় তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে এম নাসের রহমান চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হন। সেই সঙ্গে আরও অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল করিম সুমন বলেন, ‘দুপুরে শহীদ মিনার থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিল চলছিল। এ সময় কে বা কারা মিছিলের মধ্যে ঢিল মারে। এরপর সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।’
মৌলভীবাজার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মশিউর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
কুষ্টিয়ায় বিএনপিকে সড়কে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ : মানববন্ধন কর্মসূচি উপলক্ষে গতকাল সকাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে এনএস রোডের পাশে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টা থেকে এনএস রোডে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খানের নেতৃত্বে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। কিছু সময় পর বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী ব্যানার নিয়ে সড়কে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিন নেতার্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন শুরু করেন।
এ সময় সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনও বর্তমান সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপে পণ্ড হয়ে যাচ্ছে। সরকারের এ অগণতান্ত্রিক দমন-পীড়নসহ নেতাকর্মীদের ওপর জুলুমবাজির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
তবে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খান পুলিশি বাধার অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছে।’
