সোনাগাজীতে পানির সংকটে কৃষকের স্বপ্ন চৌচির

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩, ০১:১০ এএম

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়াতে দেশের সব আবাদযোগ্য জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে ফেনীর সোনাগাজীতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এক হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু বর্তমানে বোরো চাষ করে পানির সংকটে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে যেন চৌচির হয়ে গেছে। মৌসুমের শুরুতে খালে পানি পেয়ে কৃষকরা ধান লাগালেও এখন পানির অভাবে ক্ষেতগুলো ফেটে চৌচির হয়ে আছে।

কৃষকরা জানান, দু-একদিনের মধ্যে ক্ষেতে পানি দিতে না পারলে জমিতে আবাদ করা ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অবহিত করেও কোনো তৎপরতা দেখছেন না ফেনীর কৃষকরা। শুধু তাই নয়, চলতি মৌসুমে নানা কারণে এসব এলাকায় সেচ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত পানির লাইনগুলোও চালু করা যায়নি।

জানা গেছে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুহুরী সেচ প্রকল্পও কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে ৫০টিরও বেশি খাল রয়েছে। মুহুরী নদীতে মিঠা পানি, বড় ও ছোট ফেনী নদীতে লোনা পানি থাকলেও রহস্যজনক কারণে খালগুলোতে পানি যাচ্ছে না। নদীগুলোর মোহনায় খালে পানি ধরে রাখার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি রেগুলেটর (গতি নিয়ন্ত্রক)। গত কয়েক বছর যাবৎ শত কোটি টাকার সরকারি খরচে খালগুলো সংস্কারও করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও খালগুলো পানি থাকছে না। ইতিমধ্যে কৃষকদের পক্ষ থেকে পানি পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

কৃষকরা আরও জানান, অধিকাংশ এলাকায় গ্রামের পুকুরগুলো থেকে পানি কিনে জমিতে সেচ দিয়েছেন। অনেক পুকুরের পানি ফুরিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের স্বপ্নের ধান নিয়ে উদ্বিগ্নতা আরও বেড়ে গেছে। কেউ কেউ গয়নাগাটি বন্ধক রেখে, ব্যাংক, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এক বুক আশা নিয়ে বোরো আবাদ করেছেন। এ ক্ষেত্রে বর্গা চাষিরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

চরগণেশ গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমের আগেই এসব খাল সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে দায়সারা কাজ করেছে। ওই সময় কৃষক খালের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কেউ কর্ণপাত করেননি। বর্তমানে খালের তলদেশে সমতা না থাকায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের দিকে পানি যাচ্ছে না।

সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহদ লিপটন বলেন, নিয়মিত পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা পানি সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, পাউবোর দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষকদের পানির সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান ভূঞা বলেন, বেশ কয়েকটি খাল মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, অতি শিগগিরই ডাবল লিট্টিং করে খালে বাঁধ দিয়ে মোটরের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত