যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ সালের পর ব্যাংক খাতে আবার দেখা দিয়েছে অশনিসংকেত। সম্প্রতি পতন হয়েছে দেশটির অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের। এরপরই একই পরিণতি দেখা গেছে সিগনেচার ব্যাংক এবং সিলভারগেটেও। যুক্তরাষ্ট্রে এ ব্যাংকগুলোর মতো আরও অন্তত ২০০টি স্থানীয় ব্যাংক পতনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বাইডেন প্রশাসন সম্প্রতি অস্থিতিশীল বাজার শান্ত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিলেও পতনের শঙ্কা কাটিতে উঠতে পারেনি এসব ব্যাংক। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের চারজন বিশেষজ্ঞের গবেষণা রিপোর্টের (এসআইভিবি) বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট ও রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি গত শনিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০টি ব্যাংকের সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের মতো পরিণতি হতে পারে। ১৮৬টি ব্যাংক তাদের তহবিল নিয়ে বিপত্তিতে পড়তে পারে। শেয়ারবাজারে ধস ও সুদের হার দ্রুত বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলো এ অনাকাক্সিক্ষত দুঃস্বপ্নের সম্মুখীন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদের এই গবেষণা প্রতিবেদনটি সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ নেটওয়ার্কে গত সপ্তাহে প্রকাশ পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৭ মার্চ থেকে ২০২৩ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শতকরা ৪ দশমিক ৫৭ ভাগ সুদের হার বাড়িয়েছে যার কারণে এই সময়ে ব্যাংকগুলোর গচ্ছিত সম্পদের মূল্য উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে গেছে। ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে উচ্চহার সুদে ঋণ দিয়ে নিজেরা লাভবান হয়েছে, অন্যদিকে অনেক ব্যাংক তাদের অতিরিক্ত নগদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিতে রেখে দিয়েছে। কিন্তু সুদের হার বাড়ানোর কারণে এইসব গচ্ছিত বন্ডের মূল্য এখন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। গত ১০ মার্চ সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল প্রটেকশন অ্যান্ড ইনোভেশন। এরপর ব্যাংকের সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন (এফডিআইসি)। অন্যদিকে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক বন্ধের তিনদিনের মাথায় ১২ মার্চ নিউ ইয়র্কের সিগনেচার ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা আসে। ২০০৮ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার মধ্যে অর্থসংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন মিউচুয়াল ব্যাংকের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলছেন, আগামীতে দেশটির শতাধিক ব্যাংক একই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
