অপারেটর না থাকায় এক্স-রে মেশিন পড়ে আছে ১৮ বছর

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৩, ০১:৪৩ এএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পাঁচ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান অবলম্বন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার এই হাসপাতালটি বর্তমানে নিজেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। জনবল সংকটের কারণে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতালটি। চালানোর লোক না থাকায় ১৮ বছর ধরে পড়ে আছে হাসপাতালটির এক্স-রে মেশিন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে গিয়ে জানা গেছে, প্রতি মাসে জরুরি বিভাগে ২ হাজার, অন্তবিভাগে দেড় হাজার ও বহির্বিভাগে ২০-২১ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। এসব রোগীদের জন্য হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকলেও এটি চালানোর লোক না থাকায় তা প্রায় ১৮ বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, লোকবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অসংখ্যবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এদিকে, হাসপাতালের পুরনো ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় মাঝেমধ্যেই প্লাস্টার খসে পড়ে, দোতলায় শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডের শৌচাগারের দরজা-জানালা ভাঙা। রোগীদের বেডসিটগুলো দেখা যায় খুবই নোংরা। রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, এখানকার খাবার ও পরিবেশনের ধরন মানসম্মত নয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ওই সময় প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় একটি হাসপাতাল ভবন ও কয়েকটি আবাসিক ভবন। ২০০৫ সালের শেষের দিকে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু ওই সময়েও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি চালু করা যায়নি লোকবলসহ নানান সমস্যার কারণে। জানা গেছে, হাসপাতালের প্রধান সমস্যা হচ্ছে জনবল সংকট।

হাসপাতালটির বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা মনোয়ারা বেগম, ফারজু আক্তার ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। রক্ত পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রে করতে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করতে পারলেও প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে ৮০০ টাকা দিয়ে এক্স-রে করিয়ে আনতে হয়েছে। অথচ সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকা সত্ত্বেও আমরা পরীক্ষা করতে পারছি না।

এ বিষয় নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবদাস দেব বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রায় সব মেশিনই আছে। এক্স-রে টেকনিশিয়ান নেই, ল্যাব টেকনিশিয়ান ২টি পদ শূন্য, জুনিয়র মেকানিক একজন, কার্ডিওগ্রাফার একজন, ডেন্টাল সার্জন একজন, নাক-কান-গলা একজন, হৃদরোগ একজন ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ পদে নিয়োগ দিলে শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত