মারবার্গ ভাইরাস নিয়ে বিপদসংকেত

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩, ১০:৩২ পিএম

কভিডের পর এক নতুন ভাইরাস এসেছে আলোচনায়। সেটি হলো মারবার্গ ভাইরাস। ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৬৭ সালে। জার্মানির মারবার্গ, ফ্রাঙ্কফুর্টে এবং সার্বিয়ার বেলগ্রেডে একসঙ্গে ছড়িয়েছিল ওই ভাইরাস। প্রথমে ৩১ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয় এবং সাতজনের মৃত্যু হয়। উগান্ডা থেকে আমদানি করা আফ্রিকান এক বানর প্রজাতি ভাইরাসটির জীবাণু বহন করছিল। তবে ভাইরাসটি তখন থেকে অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। শূকর ও বাদুড়ও ভাইরাসটি বহন করে। যেসব মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে গুহা এবং খনিতে কাজ করেছে যেখানে প্রচুর পরিমাণে বাদুড় থাকে, সেসব মানুষের মাধ্যমে এ ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

সম্প্রতি আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় মারবার্গ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তানজানিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত পাঁচজন মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অতি-সংক্রামক এ ভাইরাসটি ইবোলার সমগোত্রীয়, যার লক্ষণ জ¦র, পেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি এবং কখনো কখনো চরম রক্তক্ষরণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এই ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের অর্ধেকেরই মৃত্যু হয়েছে।

গত কয়েক বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাঙ্গোলায় ২০০৫ সালে মারবার্গ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যদিও বিশ্বের বাকি দেশগুলোতে গত ৪০ বছরে মাত্র দুজনের মৃত্যু হয়েছে মারবার্গ ভাইরাসে। এর মধ্যে একজন ছিলেন ইউরোপের এবং আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ দুজনই উগান্ডার একটি গুহায় অভিযানে গিয়েছিলেন।

তানজানিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাগেরা অঞ্চলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসের কারণে। এ ছাড়া আক্রান্ত আরও তিনজন দেশটির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং এ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা আরও ১৬১ জনকে খুঁজে বের করছে কর্র্তৃপক্ষ। ফেব্রুয়ারিতে গিনিতে এ ভাইরাসের যে প্রাদুর্ভাব শুরু হয় তারই ধারাবাহিকতায় তানজানিয়ায় ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গিনিতে এ ভাইরাসে সংক্রমিত ৯ জনের মধ্যে ৭ জনেরই মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আরও ২০ জন রোগীর বিষয়েও অনুসন্ধান চালাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন জোট গ্যাভি বলছে, আফ্রিকার নাগরিকদের বন্যপ্রাণীর মাংস পরিহার করা উচিত। ডব্লিউএইচও বলছে, এ ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের অঞ্চলগুলোতে শূকরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত। এ ছাড়া আক্রান্ত অঞ্চলে যৌন সম্পর্কে অধিক সাবধানতা অবলম্বনে জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত