দখল-দূষণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ত্রিপুরাসুন্দরী

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩, ১০:৫২ পিএম

দখল দূষণে বিপন্ন হতে চলেছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কাপ্তাইয়ের সীমান্ত রেখায় অবস্থিত ত্রিপুরাসুন্দরী ছড়া (খাল)। উজানে মধুছড়ি থেকে ভাটিতে কর্নফুলী নদীতে মিশে যাওয়া দীর্ঘ আট কিলোমিটারের পাহাড়ি  এ ছড়ার বর্তমান অবস্থা দেখলে নামের সঙ্গে সুন্দরী বেমানান মনে হবে। নিম্নমুখী প্রবাহমান এই ছড়ার পানিতে দু’পাড়ের জমিতে চাষাবাদ ছাড়াও বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে রেশম বাগান, বারঘোনা, মিশন এলাকাসহ বিস্তীর্ন এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ এ ছড়া দখল করে নানা স্থাপনা গড়ে উঠছে। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হয়ে বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ভাটির অংশে ত্রিপুরাসুন্দরী ও শাখা খালে নানা বর্জ্যে মারাত্মক দূষণ ছড়াচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্রিপুরাসুন্দরী সেতুর কাছে চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল ও কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্রের বর্জ্য, পলিথিন, নানা অবর্জনায় সয়লাব হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের বর্র্জ্যে সুইচ, অপারেশনে মানবদেহ থেকে অপসারিত অংশসহ মারাত্মক সংক্রমণ ছড়ানোর মতো বর্জ্যও রয়েছে। এ সব বর্জ্য কর্নফুলি নদীতে গিয়ে পড়ছে। মিশন থেকে বারঘোনা এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ কিলোমিটারেরও বেশি খালের দুপাশ দখল করে গড়ে উঠেছে বাসাবাড়ি, দোকানপাঠ। চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর দোভাষী বাজারের দিকে ত্রিপুরাসুন্দরীর শাখা খাল দখল করে অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং ঘরবাড়ি নির্মাণ হয়েছে। এসব স্থাপনার আড়ালে শাখা খালটি প্রায় ঢেকে গেছে। স্থাপনার নিচ দিয়ে খালের পানির সঙ্গে প্রবাহিত হচ্ছে মলমূত্রসহ হরেক ধরনের আবর্জনা।

চন্দ্রঘোনা রাইজিং সান স্কুলের পরিচালক আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, প্রতিদিন খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল ও কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্রের নানান চিকিৎসা সামগ্রীর বিষাক্ত বর্জ্য ফেলছে ত্রিপুরাসুন্দরী ছড়াতে। এতে স্থানীয় অনেকেই অসুখে ভুগছে। এসব বিষাক্ত বর্জ্য ছড়া থেকে কর্ণফুলী নদীতে মিশে যাওয়ায় নদীর দুপাড়ের মানুষদেরও হুমকির মুখে ফেলছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরে পরিচালক (উপ-সচিব) মফিদুল আলম বলেন, ছড়া ও কর্ণফুলী নদীতে বর্জ্য ফেলার দৃশ্যের প্রমাণ মিলেছে। এমনকি প্রতিদিন খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতালের বর্জ্য ফেলায় একদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, অন্যদিকে দখল হচ্ছে ত্রিপুরাসুন্দরী ছড়া। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে তলব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে তলব করার বিষয়টি অস্বীকার করে খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং বলেন, ‘হাসপাতালের বর্জ্য আংশিক পড়ছে। অন্যান্য বর্জ্য পাশর্^বর্তী হাসপাতাল থেকে ছড়াতে ডুকছে।’

চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিচ আজগর বলেন, ‘শুধু দোভাষী বাজার নয়, উৎপত্তিস্থল কাপ্তাইয়ের মধুছড়ি এলাকায়ও ত্রিপুরা ছড়া বেদখল হয়েছে অনেক বছর আগে। দখলমুক্ত করে এই খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যাবতীয় সহযোগিতা  দেব।’

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জামশেদুল আলম বলেন, ‘ত্রিপুরাসুন্দরী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জানানো হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত