প্রযুক্তি বিশে্ব সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এটির সবচেয়ে আধুনিকতম সংযোজন চ্যাটজিপিটি। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই’র তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত তুমুল জনপ্রিয় এই চ্যাটবটের হালনাগাদ ভার্সন ‘জিপিটি-ফোর’ গত ১৪ মার্চ বাজারে এসেছে।
জিপিটি-৪ কী
প্রতিষ্ঠানটির মতে, জিপিটি-৪ একটি বৃহৎ মাল্টিমোডাল মডেল (ইমেজ এবং টেক্সট ইনপুট, টেক্সট আউটপুট নির্গত করা), যা বাস্তব বিশ্বের অনেক পরিস্থিতিতে মানুষের চেয়ে কম সক্ষম হলেও বিভিন্ন পেশাদার এবং অ্যাকাডেমিক উপায়ে মানব-স্তরের কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করে।
কোম্পানি সতর্কবার্তা
কোম্পানি সতর্কবার্তা মতে, চ্যাটবটটি নিজের সম্পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগালে মানুষ গণহারে চাকরি হারাবে। সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আশা করি, জিপিটি-৪ বিভিন্ন চাকরিতে প্রভাব ফেলবে, যেগুলোতে বেশ কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আইনি সেবা।
জিপিটি-৪ এর প্রাপ্যতা
জিপিটি-৪ ব্যবহারকারীর প্রদত্ত প্রম্পট থেকে গল্প, লেখা, কম্পিউটার কোড, ডায়লগ, অর্থাৎ যেকোনো টেক্সট-ভিত্তিক আউটপুট প্রদান করতে পারে। তবে এর দেওয়া উত্তর সবসময় সঠিক হয় না। চ্যাটজিপিটি তৈরি হয়েছে জিপিটি-৩.৫ নামক বৃহৎ ল্যাংগুয়েজ মডেলের ওপর ভিত্তি করে। ওপেনএআই জানিয়েছে ইউনিফর্ম বার এক্সামে জিপিটি-৪ ৯০তন স্থান অধিকার করতে সক্ষম হয়েছে, যা একটি আইনজীবী সার্টিফিকেশন টেস্ট। ‘এটি হলো এমন একটি সিস্টেম যা স্বপ্ন দেখতে পারে, ভাবতে পারে ও টেক্সটের মাধ্যমে আইডিয়া দিতে পারে আপনার কাছে’, এনাউন্সমেন্ট ভিডিওতে বলেন ওপেনএআই-এর একজন কর্মী। এই নতুন সিস্টেম ছবির ওপর ভিত্তি করেও উত্তর দিতে পারে, তবে এই সুবিধা পাবলিকলি এখনো এভেইলেবেল হবে না বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। কোম্পানিটি জানিয়েছে, জিপিটি-৪ তৈরি করা হয়েছে কঠিন প্রশ্নগুলো সহজভাবে উত্তর প্রদানের জন্য।
জিপিটি-৪ ভার্সন ছবির বিষয়বস্তু বুঝতে সক্ষম। কেউ রান্নার উপকরণের ছবি দিলে এটি বলে দিতে পারবে, এসব উপকরণ দিয়ে কী কী রান্না করা সম্ভব। কোনো ছবির জন্য ক্যাপশন বা বর্ণনাও লিখতে পারবে এই চ্যাটবট। চ্যাটজিপিটির এই ভার্সনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ভার্সনটি একবারে ২৫ হাজার শব্দ পর্যন্ত বুঝতে সক্ষম, যা আগের ভার্সনের চেয়ে ৮ গুণ বেশি। কোম্পানিটি বলেছে, ‘আমরা অনুশীলনের চাহিদা এবং সিস্টেমের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে সঠিক ব্যবহারের নির্ধারিত সীমা ঠিক করব।’ এছাড়া এপিআই-এর প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘আমরা কিছু ডেভেলপারকে আমন্ত্রণ জানাব এবং চাহিদার সঙ্গে সামর্থ্যরে ভারসাম্য বজায় রাখতে ধীরে ধীরে স্কেল বৃদ্ধি করব।’
কমবে ভুল তথ্য
জিপিটি-৪ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করলেও তথ্য হালনাগাদ এখনই করছে না ওপেনএআই। তাই আগের মতোই ২০২১ সালের পরের কোনো তথ্য চ্যাটজিপিটি জানে না।
সফটওয়্যার তৈরি সম্ভব
চ্যাটজিপিটির বাইরেও জিপিটি-৪ প্রযুক্তি অন্যান্য এআই নির্মাতারা চাইলেই ব্যবহার করতে পারবেন। ওপেনএআই বলছে, জিপিটি-৪ ব্যবহার করে দ্রুত অত্যন্ত সাবলীল ভাষান্তর করা সম্ভব, লেখার সারমর্ম করা বা কাঠখোট্টা ডকুমেন্ট পড়ে সেটা থেকে সহজবোধ্য ব্যাখ্যা তৈরি, কাস্টমার কেয়ার বা ট্রেনিং চ্যাটবট তৈরি, ছবি বা ভিডিও তৈরির এআইকে সহায়তাকারী ইনপুট সিস্টেম, এমনকি চাইলে বড়সড় সফটওয়্যার তৈরির মতো কাজও জিপিটি-৪-এর মাধ্যমে করা সম্ভব।
জিপিটি-৪ এর সীমাবদ্ধতা
এর অধিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা। জিপিটি-৪ এর পূর্ববর্তী জিপিটি মডেলগুলোর মতো একই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চ্যাটজিপিটি-৪ সম্পর্কে ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম আল্টম্যান বলেন, ‘আগেরগুলোর মতো এখনো এটি ত্রুটিপূর্ণ, কার্যক্রম পরিচালনা সীমিত। তবে পূর্ববর্তীগুলো থেকে অনেক সক্ষমতা রয়েছে এটির। ধীরে ধীরে এটির ব্যবহারও আর চিত্তাকর্ষক হবে।’
সঙ্গীর সন্ধান দেবে
জিপিটি-৪ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংস্থা তাদের ব্যবহারকারীদের নিত্যনতুন সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চলেছে জনপ্রিয় এক ডেটিং অ্যাপ সংস্থা। ওই ডেটিং অ্যাপ সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ‘কিউপিডবট’ নামের এই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যে কোনো ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী তাদের যোগ্য সঙ্গী খুঁজে দেবে। উলটো দিকে যিনি আছেন, তার সঙ্গে দেখা করার দিন ও সময় ঠিক করে জানিয়ে দেবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র ভেসে বেড়াচ্ছে নানা রকমের মন্তব্য। কেউ বলছেন, ‘এই প্রযুক্তি টাকাপয়সা হাতানোর ফাঁদ তৈরি করেছে।’ আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘মনের মানুষ খুঁজতে মন ছাড়া আর সব কিছুই আছে দেখছি।’
যেভাবে ব্যবহার করবেন
ওপেনএআই-তে সাইন আপ করে প্রাথমিক চ্যাটজিপিটির ব্যবহার শুরু করা যেতে পারে। তবে, কিছু কিছু দেশ ও অঞ্চলের জন্য বিধিনিষেধ রয়েছে। বর্তমান সংস্করণটি এখন ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে চ্যাটজিপিটি প্লাস ভোক্তাদের, মাসে ২০ ডলারের মূল্যে। ব্লুমবার্গের মতে, ভবিষ্যতে এটি পাওয়া যাবে মাইক্রোসফটের সার্চ ইঞ্জিন, বিং প্রভৃতিতে। এখন আপনি যদি বিং-এর ওয়েবপেজে যান এবং ‘চ্যাট’ বোতামে ক্লিক করেন তাহলে আপনাকে এক ওয়েবপেজে নিয়ে যাওয়া হবে এবং প্রতীক্ষা-তালিকায় সাইন আপ করতে বলা হবে। সবার ব্যবহারের সুযোগ ধীরে ধীরে দেওয়া হবে।
