রিকশা চালিয়ে পড়ার খরচ জোগানো মমিন এখন শিক্ষক

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৫১ পিএম

দারিদ্র্যের কাছে হার মানেননি মমিনুর রহমান (৩০)। পড়াশোনার খরচ জোগাতে যাকে একসময় করতে হয়েছে রিকশা চালনা ও দিনমজুরের কাজ। অবশেষে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা এনটিআরসির মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদ্রাসায় ইংরেজি বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

এই যুবকের বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্যেকুমরপুরের সফপাড়ায়। তার বাবার নাম নুর ইসলাম ও মা ময়না বেগম। তিন ভাইবোনের মধ্যে মমিনুর সবার বড়।

২০০৯ সালে সদরের মধ্যেকুমরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১১ সালে নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ  থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন।

খেঁাঁজ নিয়ে জানা গেছে, মমিনুর রহমান এক সময় ক্ষেতখামারে কাজ ও রিকশা চালিয়ে নিজের খরচ জুগিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের স্নাতকে। তিনি ইংরেজি বিষয়ে প্রথম বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত আর্থিক সংকটে পড়ে বারবার ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালিয়ে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় সারা দেশের তৃতীয় স্থান অধিকার করেন মমিনুর। মমিনুরের সাফল্যে খুশি স্থানীয়রা।

মমিনুর বলেন, অন্যদের জামাকাপড় পরে কলেজ করছিলাম।  অনার্সে পড়ার সময় কতবার যে ঢাকার কেরানীগঞ্জে গিয়েছি রিকশা চালাতে তার কোনো হিসাব নেই। এছাড়া, কুমিল্লাও গেছি কাজের সন্ধানে। সে সময় যারা আমাকে কাজের জন্য কুমিল্লা নিয়ে গেছে, বাসে সিট পর্যন্ত দেয়নি, দাঁড়িয়ে  গিয়েছিলাম। এসব কষ্টের কথা কোনোদিন ভুলতে পারব না। এখন আমার স্বপ্ন বিসিএস ক্যাডার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত