ঈদ আসন্ন। মধ্য রমজানের পর থেকে রাজশাহীর ঈদ বাজারে বাড়তি মানুষের সমাগম ঘটছে। রাজশাহীর ঈদ বাজারে শৌখিন ক্রেতারা ঝুঁকেছেন সিল্কপাড়ায়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মন জয় করেছে সিল্ক। ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সিল্কের পোশাকে ঈদ উদযাপন যেন বাড়তি আনন্দ দেয়। তবে, এবারে প্রায় সব সিল্কপণ্যের দামই চড়া। সিল্ক পোশাকের দাম আগের বছরের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে এর মধ্যেই সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়ে সিল্কপণ্য কিনছেন ক্রেতারা।
উৎসব এলেই মার্কেটগুলো নতুন মাত্রা পায়। নতুন পোশাক কেনার ধুম পড়ে যায় সবখানেই। আর নারীর পোশাকের কথা এলে চলে আসে সিল্কের নাম। রাজশাহীর ঈদ বাজারে যারা কেনাকাটা করছেন তাদের বিশেষ ঝোঁক দেখা যাচ্ছে সিল্কের প্রতি। রাজশাহী সিল্কের এখন দুর্দিন চলছে। আগের মতো ডিজাইন কিংবা বিভিন্ন ধরনের সিল্কপণ্য পাওয়া এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। রাজশাহীর সিল্ক কারখানার সংখ্যাও কমেছে। কিন্তু যে কয়েকটি সিল্ক শোরুম আছে সেগুলো এরই মধ্যে বেশ জমেছে। রমজান মাসের বাকি দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহীর সিল্ক শোরুমগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন সিল্কভক্তরা। রাজশাহীর বিসিক এলাকায় সিল্কের কারখানাগুলোর সঙ্গেই শোরুম রেখেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন এসব শোরুম বেশ জমেছে। ঐতিহ্যবাহী সিল্কের শাড়ি, পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি, থ্রি-পিস, শার্ট, হিজাব, ওড়না, স্কার্ফ প্রভৃতি পোশাক বিক্রি হচ্ছে এসব শোরুমে।
এখানে রাজশাহীর বাইরের অনেক জেলা থেকেও ক্রেতা আসছেন। ঊষা সিল্ক-এ শাড়ি দেখছিলেন নাইমা হক। শাড়িটির দাম চাওয়া হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে। নাইমা হক বলেন, এবারে নতুন নতুন কিছু ডিজাইন দেখে তিনি খুশি। এবছর দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তবে জিনিসের যে মান সে অনুযায়ী দামটাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি।
সপুরা সিল্কস-এ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কালেকশন অনেক। ভালোই লাগছে। দেখছি ঘরে ঘুরে। পছন্দ হলে কিনব। কিন্তু দামটা আগের থেকে অনেকটাই বেশি মনে হচ্ছে। দেখা যাক পছন্দের সঙ্গে দামের সমন্বয় করতে পারি কি না।
দাম কিছুটা বেড়েছে এ কথা স্বীকার করছেন শোরুমের মালিকরাও। তারা বলছেন, মূলত এসব কাপড় তৈরির সুতা আসে চীন থেকে। সুতার দাম বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য কাঁচামালের দামও বেড়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা বাড়াতেই হয়েছে।
রাজশাহীর ঊষা সিল্কের পরামর্শক এ এফ এম লুৎফর রহমান বলেন, ‘সুতার দাম এবার বেড়েছে। তাই পণ্যের দাম একটু বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটা ২৫ ভাগ পর্যন্ত বেড়েছে।’
সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেডের পরিচালক আশরাফ আলী বলেন, গত কয়েক বছর করোনার কারণে ব্যবসা খুবই খারাপ গেছে। এবার ক্রেতাদের সাড়া ভালো। আশা করছি আগামী যে কয়েক দিন আছে এর মধ্যে ভালো সাড়া মিলবে। তিনি বলেন, নতুন নতুন ডিজাইন আমরা করেছি। এগুলো ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। এবার মসলিন, র-সিল্ক শাড়ি ও থ্রি-পিসে বৈচিত্র্য এনেছি। তবে শাড়ির চাহিদা বেশি। বাচ্চাদের পোশাকেরও বেশ চাহিদা আছে।
আশরাফ আলী বলেন, এবার ২৫০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দামের শাড়ি আছে। এছাড়াও থ্রি-পিস ৫ হাজার থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা দামের রয়েছে। পাঞ্জাবি সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু নতুনত্বের কারণে বাড়তি দামেও ক্রেতাদের অভিযোগ নেই। মানুষ পছন্দের পণ্যটি কিনতে দামের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।
