আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে আগে থেকেই সাবধানী বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। ২০২০ সালে বিজনেস ইনসাইডারকে মাস্ক বলেছিলেন, ‘এক দশক ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপদের কথা বলে যাচ্ছি। নতুন করে মাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, যেসব স্মার্ট লোক মনে করে তাদের যন্ত্র কখনো বোকা বানাতে পারবে না তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।’ সতর্ক করার পাশাপাশি এর সমাধানের পথও দেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ ও এআই উন্নয়নের দিকে কড়া নজর রাখতে হবে। তা না হলে আপত্তিজনক বা দায়িত্বহীন প্রযুক্তির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দিতে আমরা ব্যর্থ হব। এখন ২০২৩, সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটি নিয়ে। সম্প্রতি আইরিশ সংবাদপত্র ‘দ্য জার্নাল’ জানায়, মাস্ক চ্যাটজিপিটিকে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতমূলক বলে দেখেন। এমনকি এক টুইটে তিনি ‘প্রশিক্ষিত এআই সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি’ নিয়েও মন্তব্য করেন। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট জানিয়েছিল, মাস্ক এমন এআই মডেল বানানোর লক্ষ্যস্থির করেছেন যেগুলো ‘সত্যের অনুসন্ধানী’ হবে।
এবার চ্যাটজিপিটি মোকাবিলায় নিজের পদক্ষেপ নিয়ে মাস্ক জানিয়ে দিলেন, তিনিও আনছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট। মাস্ক ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আমি এমন একটি চ্যাটবট চালু করতে যাচ্ছি যাকে আমি বলব, ট্রুথজিপিটি। এটি এমন একটি সত্যসন্ধানী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা মহাবিশ্বের প্রকৃতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রুথজিপিটিই সম্ভবত মানুষকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার করার জন্য সর্বোত্তম পথ।’ ফক্স নিউজের সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে মাইক্রোসফটের অর্থায়নে গড়ে ওঠা ওপেনএআইয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন টেসলা প্রধান মাস্ক। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওপেনএআই বহুল আলোচিত চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে মিথ্যা বলতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ওপেনএআই মাইক্রোসফটের সঙ্গে মিলিত হয়ে এখন অনেক বেশি মুনাফামুখী হয়ে উঠেছে। টুইটারের প্রধান ইলন মাস্ক কেবল ওপেনএআইয়ের সমালোচনা করেই ক্ষান্ত থাকেননি। তিনি গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজেরও কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন তা ল্যারি করছেন না।
