সুবিধা না থাকায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন শিল্প মালিকরা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৩, ১১:২১ পিএম

অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জামালপুরের বিসিক শিল্পনগরী। দীর্ঘদিনেও এই নগরীটিতে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজব্যবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি অন্যদিকে নতুন উদ্যোক্তারা শিল্প-কারখানা করতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। দিনের পর দিন লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কল-কারখানা। এতে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে বিসিক শিল্পনগরী।

জানা যায়, ১৯৮০ সালে জামালপুর জেলাকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলতে শহরের দাপুনিয়া এলাকায় ২৬ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। পরে ১৯৯০ সালে দুই ক্যাটাগরিতে ১৫০টি প্লট বরাদ্দ দিয়ে যাত্রা শুরু করে। এ বিসিক নগরীর শুরুটা ভালোই হয়েছিল। সে সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ১৯৭টি প্লট বরাদ্দ নেন। এই বিসিক শিল্পনগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৮৬টি কারখানার মধ্যে বর্তমানে ৫৬টি কারখানা চালু রয়েছে।

কিন্তু দিনের পর দিন শিল্পনগরীর পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন, রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে কারণে শিল্পনগরীর গাছপালা মরে যাচ্ছে। বর্তমানে বিসিক শিল্পনগরী ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে।

এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, আবর্জনা, নোংরা পরিবেশ শিল্প-কারখানার মালিকদের নিত্যদিনের সঙ্গী। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা তাদের কারখানার মালামাল পরিবহনে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়ছেন। এখানকার রাস্তা দিয়ে ট্রাক তো দূরের কথা রিকশায়ও চলাচল করা যায় না। ফলে মালামাল পরিবহনে তাদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, দিনের বেলায় যেমন-তেমন, রাতে এই শিল্পনগরী হয়ে উঠে অপরাধী ও নেশাখোরদের আস্তানা। হিজড়া ও মাদকসেবীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন শিল্প-মালিকরা। এ কারণে নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা এখানে শিল্প-কারখানা করার জন্য এসে ফিরে যাচ্ছেন।

বিসিকের আরসিআই কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক রফিক আহম্মেদ বলেন, বিসিক শিল্পনগরীর সমস্যার শেষ নেই। এ নিয়ে অনেক আন্দোলন করেছি। কোনো কাজ হয়নি। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজব্যবস্থা আর নিরাপত্তাপ্রাচীর না থাকায় এখানকার শিল্প-কারখানাগুলো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। দিনের বেলাতেই ভুতুড়ে পরিবেশ থাকে। তাহলে বোঝেন রাতের অবস্থা কেমন হয়। এখান থেকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পায়। এখানে অনেকেই শিল্প-কারখানা করতে আসেন, কিন্তু পরিবেশ দেখে ফিরে যান।

বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক খান মিলন বলেন, ‘বিসিকের অবস্থা ভালো নেই। এখানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করার মতো কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। দুই বছর আগে ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট বেহাল। কোনো মালিক কর্মচারীর নিরাপত্তা নেই। এ বিষয়গুলো নিয়ে কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার বসেও কোনো কাজ হয়নি।

জামালপুর ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সম্রাট আকবর বিসিক শিল্পনগরীর ভিন্ন জটিলতার কথা স্বীকার করে বলেন, সেটা নিরসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ড্রেনেজব্যবস্থা, রাস্তাঘাট ও ময়লা-আবর্জনা সরানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত