আগামী আট মাসের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচন করতে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের ভোট। ১৯০টি কেন্দ্রে ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আজকের নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নোমান আল মাহমুদ (নৌকা) ছাড়াও আরও চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি কিংবা জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত অধ্যক্ষ এসএম ফরিদ উদ্দিন (চেয়ার), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত স উ ম আবদুস সামাদ (মোমবাতি), এনপিপি মনোনীত কামাল পাশা (আম) ও স্বতস্ত্র প্রার্থী মীর মো. রমজান আলী (একতারা)। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নোমান আল মাহমুদ। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা প্রায় প্রতিদিনই তার সঙ্গে প্রচারণায় ছিলেন। নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি দলীয় অবস্থান সব মিলিয়ে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে অনেকটা নির্ভার তিনি। পাশাপাশি চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ এসএম ফরিদ উদ্দিন এবং মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী স উ ম আবদুস সামাদও নিজেদের দলীয় অবস্থান থেকে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন সাধ্যমতো। বিকল্প না থাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোটগুলো নিজেদের পক্ষে টানতে পারবেনÑ এমন প্রত্যাশা তাদের। তবে আম মার্কার কামাল পাশা ও একতারা মার্কার রমজান আলীর প্রচার তেমন একটা দৃশ্যমান হয়নি। নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় প্রার্থীরা প্রচারণা শেষ করেছেন। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের। এর আগে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি আসনটিতে আরও একবার উপনির্বাচন হয়েছিল। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান ছিলেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হলেও ভোটে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ আনা হয় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে সেই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২৩ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপরীতে শক্ত কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটার উপস্থিতি নিয়ে রয়েছে সংশয়।
নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন কি না, এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভোটাররা। শাকপুরা এলাকার কৃষক হাকিম আলী বলেন, ‘এর আগেও ইভিএমে ভোট দেখেছি। বুথে টিপ দেয় একজন, ভোট দেয় আরেকজন। এ অবস্থা হলে তো ভোট দিতে যাওয়াার দরকার নেই।’ তবে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করার জন্য গত কয়েক দিন ধরে সর্বতোভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন নৌকার পক্ষের লোকজন। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের নিয়ে আসার জন্য নেতাকর্মীদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন দেশ রূপান্তরকে জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনীসামগ্রী ভোটকেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার মিলে ৪৩২ কর্মকর্তা সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়াও অতিরিক্ত আরও ৫ শতাংশ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে ২৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। র্যাবের টিমও টহলে থাকবে। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির মোবাইল টিমও দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচনী এলাকায়।
মহাজোটের শরিক দল জাসদ নেতা মঈন উদ্দিন খান বাদল ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর তিনি মারা যান। এরপর ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মারা যান তিনিও। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো উপনির্বাচন হচ্ছে। এ আসনে ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮ জন। চট্টগ্রাম নগরী ও বোয়ালখালী উপজেলার ১৯০টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৪১৪টি ভোটকক্ষে আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ হবে।
