মুয়াজ্জিন সময়ের পাহারাদার

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৫১ পিএম

বাংলাদেশে প্রায় আড়াই লাখ মসজিদ রয়েছে। প্রত্যেক মসজিদে কমপক্ষে একজন করে দায়িত্বশীল মুয়াজ্জিন আছেন। যাদের কণ্ঠে প্রতিদিন শোনা যায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আহ্বান। গ্রামে-গঞ্জে ও শহরে-নগরে মিলিয়েই এদেশের মানুষের বাস। বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রয়োজনেই তৈরি হয়েছে এদেশের মসজিদগুলো। শহরের তুলনায় গ্রাম এলাকার মসজিদগুলোর অবকাঠামো অনেকটাই অনুন্নত। সেটা অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ।

মুসলিম সমাজের নারীদের মাঝে নফল রোজা রাখার প্রবণতা অনেক বেশি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের নারীরা এ বিষয়ে অনেক এগিয়ে। তাদের মাঝে খুব অল্প সংখ্যক নারীই ঘড়ির কাটা সম্পর্কে অবগত নন। এমতাবস্থায় গ্রামাঞ্চলের নারীরা রমজান মাসসহ যখনই কোনো নফল রোজাপালন করেন, তারা সাধারণত মুয়াজ্জিনের ফজরের আজান শুনে পানাহার বন্ধ করেন এবং মাগরিবের আজান শুনে ইফতার করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষ জানেনই না, সাহরির শেষ সময় রমজান বাদে আর অন্য সময়ে দেওয়া ফজরের আজানের সময় এক নয়।

সাধারণতঃ আমাদের দেশে রমজান মাসে ফজরের আজান দেওয়া হয় সাহরির সময় শেষ হওয়ার একটু পরে। আর রমজান মাসের পর ফজরের আজান দেওয়া হয়, ওয়াক্ত হওয়ার ত্রিশ-পয়ত্রিশ মিনিট পর।

রমজানের ফরজ রোজা বাদে সারাবছরই কিছু কিছু নফল রোজার কথা  হাদিস থেকে জানতে পারি। যেমন শাওয়াল মাসের ছয় রোযা, আরাফার রোজা, মহররম মাসের রোজা, সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা, প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা। সচেতন রোজাদাররা এই রোজাগুলো পালনের সময় মুয়াজ্জিনের আজান নয়, বরং তারা সাহরির শেষ সময় জেনে নেন। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেকে এই পার্থক্যটা এখনো করে ওঠতে পারেন না, এ বিষয়ে জানেন না। তারা নির্ধিদ্বায় সারাবছর মুয়াজ্জিনের আজানের ওপর নির্ভর করে রোজা শুরু ও ভঙ্গ করেন। এমতাবস্থায় অনেকের রোজা সঠিকভাবে পালন হচ্ছে না। এ বিষয়ে সবার সতর্কতা কাম্য।

আরেকটি বিষয়, গ্রামাঞ্চলের অনেক মুয়াজ্জিন বেশি সতর্কতার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিংবা নামাজা-রোজায় স্থায়ী ক্যালেন্ডারে দেওয়া ইফতারের নির্ধারিত সময় থেকে আরও পরে আজান দেন। অথচ নবী কারিম (সা.) দ্রুত ইফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘দ্বীন ততদিন পর্যন্ত বিজয়ী

থাকবে, যতদিন পর্যন্ত মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে। কেননা, ইহুদি-খ্রিস্টানরা বিলম্বে ইফতার করে।’ -সুনানে আবু দাউদ : ২৩৫৫

এখন চলছে শাওয়াল মাস। এ মাসে কমেবেশি প্রায় মানুষই শাওয়ালের নফল রোজাগুলো পালন করবেন। তাই মুয়াজ্জিনদের কাছে অনুরোধ, যথাযথ সর্তকতা অবলম্বন করে সঠিক সময়ে আজান দেওয়ার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত