সুন্দরবন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি লাশ নিখোঁজ এক জেলের বলে পুলিশ হস্তান্তর করলেও লাশটি নিখোঁজ মৎস্যজীবী দলের নেতা মাহে আলমের বলে দাবি করেছে তার পরিবার। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে মোংলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করে মাহে আলমের পরিবার। মাহে আলম মোংলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চিংড়ি বণিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। গত ১০ এপ্রিল থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে অপহরণের পর খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
লিখিত বক্তব্যে মাহে আলমের ছোট ছেলে সুমন রানা বলেন, ‘গত ১০ এপ্রিল সকালে মাহে আলমকে বানীশান্তা ঘাট থেকে অপহরণ করে সুন্দরবনের করমজলে নিয়ে যায় মোশারেফ হোসেন নামে এক বোট মাঝিসহ অজ্ঞাতরা। যা মোংলা পোর্ট পৌরসভার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে পাওয়া গেছে। অপহরণের তিন দিন পর গত ১৩ এপ্রিল সুন্দরবনের করমজল এলাকা থেকে একটি অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে খুলনার দাকোপ থানা পুলিশ। ওই লাশের পরনে থাকা শার্ট-প্যান্ট মাহে আলমের বলে দাবি করেন তার পরিবার। কিন্তু রহস্যজনক কারণে লাশটি গত ৭ এপ্রিল বনবিভাগের অভিযানকালে মারধরে নদীতে পড়ে নিখোঁজ থাকা মোংলার চিলা এলাকার জেলে হিলটন নাথের বলে তার পরিবারকে হস্তান্তর করে পুলিশ। যদিও হিলটনের পরনে ছিল লুঙ্গি ও গেঞ্জি।
পরে গত ২০ এপ্রিল মোংলা পোর্ট পৌরসভার সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করলে মাহে আলমকে অপহরণ ও খুন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয় পরিবার। এ বিষয়ে গত ২৪ এপ্রিল মোংলা থানায় মামলা করতে গেলে লাশ পাওয়ার স্থল দাকোপ থানায় বলে ফিরিয়ে দেয়। আর মাহে আলমের বাড়ি মোংলায় হওয়ায় দাকোপ থানাও ফিরিয়ে দেয়। এমন অবস্থায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবার।
খুলনার দাকোপ থানার ওসি উজ্জল কুমার দত্ত বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি হিলটনের বলে তার পিতা-মাতা নিয়ে গেছে। পরে মাহে আলমের পরিবার লাশ তাদের দাবি করে এখানে জিডি করেছেন। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মোংলা থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) বিকাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘যেহেতু হিলটনের লাশ হিসেবে দাকোপ থানা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে এবং দাকোপ থানায় হত্যা মামলাও হয়েছে। তাই একই ঘটনায় তো দুই থানায় মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিএনএ টেস্টে লাশটি মাহে আলমের প্রমাণিত হলে মামলায় তা সম্পৃক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
