এমপির বাধায় ফের দুই স্কুলের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

আপডেট : ০২ মে ২০২৩, ০৯:২৮ পিএম

বরিশালের উজিরপুরে ফের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় হস্তক্ষেপ করে বাতিল করেছেন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম। গত সোমবার বরিশাল জিলা স্কুল কেন্দ্রে ওই নিয়োগ পরীক্ষা কোনো কারণ ছাড়াই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০ জন চাকরিপ্রার্থী বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে অল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাসে চাকরিপ্রার্থীরা শান্ত হন এবং জিলা স্কুল ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

এদিন উপজেলার আটিপাড়া স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ও রামেরকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঁচটি পদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি ও বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে এমপি শাহে আলম মুঠোফোনে নিয়োগ স্থগিত করার নির্দেশ দিলে তিনি পরীক্ষা বাতিল করেন।

এর আগে গত ১৮ মার্চ এই দুটি স্কুলসহ উজিরপুরের আরও কয়েকটি স্কুলে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল বরিশাল জিলা স্কুলে। সেই পরীক্ষায় এমপি শাহে আলম সরাসরি উপস্থিত হয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে পরীক্ষা স্থগিত করে চলে যান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকরা। তখন এমপি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তাকে ছাড়া নিয়োগ কীভাবে হয় তা তিনি দেখবেন।

চাকরিপ্রার্থী বিনয় হালদার বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে একাধিকবার এসেছি। আসার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখেছে। তখন আমরা জানতে পেরেছি, এমপির কারণে পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। আজও আবার এমপি সাহেবের কারণে পরীক্ষা বাতিল হলো।’

আটিপাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দেড়মাস আগে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল হয়নি। আজও সবাই এসে জানতে পারলাম এমপি সাহেবের নির্দেশে স্থগিত হয়েছে। আমরা কতকাল ভুগব?’

রামেরকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জীবন কৃষ্ণ সিকদার অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘এর আগেও কমিটির সভাপতির সঙ্গে এমপির বাগ্বিত-ায় পরীক্ষা হয়নি। আজও হলো না। দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের কী জবাব দেব। আমাদের কী করণীয় আছে?’

উজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মোবাইলে এমপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে তিনি পরীক্ষা স্থগিত করেছেন। কেন করেছেন জানি না।’

জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এমপি দুইদিন ধরে আমাকে ফোন করে বলেছেন সমস্যা আছে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তাই পরীক্ষা নেওয়া হয়নি।’

এমপি শাহে আলম নিয়োগ বন্ধ রাখার নির্দেশের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘নিয়োগ নিয়ে নানা কথা উঠেছে। তাই নিয়োগ স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত