মাদারীপুর-বড়াইগ্রামে সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত ২২

আপডেট : ০৯ মে ২০২৩, ১১:৪০ পিএম

নাটোরের বড়াইগ্রামের নগর ইউনিয়নে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে গত সোমবার রাতে মাদারীপুর পৌরসভায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

বড়াইগ্রামের নগর ইউনিয়নের মকিমপুর গ্রামের এ সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মুদি দোকানসহ উভয়পক্ষের সাতটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন ডালুর সমর্থক আতাহার আলী প্রামাণিক পক্ষের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিজয়ী চেয়ারম্যান মস্তফা শামসুজ্জোহার সমর্থক নজরুল ইসলাম পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছিল। দুপক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে এসএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় নজরুল ইসলাম পক্ষের মহিবুর নামে এক পরীক্ষার্থীকে আতাহার আলীর লোকেরা রাস্তায় বাধা দেয়। খবর পেয়ে রুস্তম আলী ম-লসহ কয়েকজন সেখানে গেলে সংঘর্ষ বাধে। এতে শিশুসহ ১২ জন আহত হয়। এ সময় লালন মিয়ার মুদিদোকান ও বাড়ি, দুলাল হোসেনের মুদিদোকান ও বাড়িসহ জামাল উদ্দিন, আতাহার আলী প্রামাণিক, রুস্তম আলী প্রামাণিক, আলতাফ হোসেন ও জয়নাল আবেদীনের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সাবেক চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন ডালু বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে আতাহার আলীসহ যারা নৌকার নির্বাচন করেছে তাদের ওপর প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা মারধরসহ নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি।’

বর্তমান চেয়ারম্যান মস্তফা শামসুজ্জোহার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে নেমেছে।’

এদিকে মাদারীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাকদী এলাকায় গত সোমবার রাত ৯টার দিকে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানায়, ওই এলাকার জামাল মৃধার সঙ্গে শাহাদাৎ হাওলাদারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার রাতে একটি অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় উভয়পক্ষ। এ ঘটনায় ২০টিরও বেশি বসতঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ সময় দুই পুলিশসহ আহত হয় অন্তত ১০ জন। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুপক্ষের ইটপাটকেলের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত