এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেও চলছে কোচিং সেন্টার

আপডেট : ১৮ মে ২০২৩, ১০:১৪ পিএম

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনা মানছে না জয়পুরহাটের কোচিং সেন্টারগুলো। শহরের প্রায় শতাধিক কোচিং সেন্টার তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো পাঠদান না হওয়ায় শর্ট সাজেসন্স কিংবা পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আসায় শিক্ষার্থীরাও কোচিং সেন্টারমুখী হচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জয়পুরহাটের বদর মাস্টার রোড, হাজি মাদ্রাসা রোড, জামালগঞ্জ রোডসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, খুব পরিচিতজনের নামসহ চমকপ্রদ বিভিন্ন নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এসব মানহীন কোচিং সেন্টার। প্রশ্নফাঁস রোধে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন গত ২৬ এপ্রিল থেকে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কয়েক দফা অভিযান ও জরিমানা করার পরও অধিকাংশ কোচিং সেন্টার চালু আছে।

সরেজমিনে বদর মাস্টার রোডের সম্রাট কোচিং, জাহিদ কোচিং, কনফিডেন্স কোচিং, বিসিএস একাডেমি, নিউক্লিয়াস সায়েন্স একাডেমি, হাজি মাদ্রাসা রোডের অ্যামবিশন কোচিং, এইড কোচিং, জামালগঞ্জ রোডের কমার্স গ্যালারিসহ অসংখ্য কোচিং সেন্টারে কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে। দেশ রূপান্তরের এই প্রতিনিধিকে দেখে কোচিং কর্তৃপক্ষের কেউ আড়াল হতে চায়, কেউ দ্রুত সটকে পড়ে। কেউ অকপটে স্বীকার করেন আইন মানছেন না তারা। অনেকে বলেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাই নিয়ম অমান্য করে কোচিং করাচ্ছেন, আর আমরা তো সরকারি চাকরি করি না।

ফারুক হোসেন নামে বৈরাগী মোড় এলাকার একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমরা যখন পড়াশোনা করেছি তখন স্কুল-কলেজে ভালো পড়াশোনা হতো এবং শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পড়াশোনা করাত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে উদাসীনতা দেখা যায়। তারা ঠিকমতো ক্লাসে পড়াশোনা করায় না। এ কারণে প্রতিটি শিক্ষার্থী কোচিংমুখী হচ্ছে। কোচিং করাতে গিয়ে আমরা আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়ছি।’

আমদই ইউনাইটেড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ ওয়াজেদ পারভেজ বলেন, ‘কোচিং সেন্টার কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত নয়। কিছু শিক্ষক ও ছাত্র বাণিজ্য করার জন্য এসব কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছে। এগুলোতে গাদাগাদি করে পড়ানো হয়। একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি শতভাগ ক্লাস হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং করার প্রয়োজন নেই। জেলায় অনেক ভালো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন এবং স্কুলে ভালোমতো ক্লাস না নিয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে ভর্তি করা যায় সেই চিন্তায় থাকেন।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহা. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার জানামতে জয়পুরহাটের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ আছে। যদি কোনো কোচিং চালানোর অভিযোগ পাই তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত