মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাস চীনের বৃদ্ধি

আপডেট : ২০ মে ২০২৩, ১১:৩৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে আসছে, তখন সেখানে চীনকে নানা পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশটিকে তাদের দরকার। তবে চীন কি এখনই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা নিতে পারবে বা চাইবে? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

চীনের তৎপরতা

সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের ৬ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন। গত সাত বছরে দেশ দুটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈঠক হয়নি। তার আগের মাসে সৌদি আরব ও ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় চুক্তি করেন। এই ঘটনা বিশ্বকে হতবাক করে দেয়। কারণ আঞ্চলিক নানা ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, যে বৈঠকে সৌদি আরব ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে এবং দুই মাসের মধ্যে দূতাবাস পুনরায় খোলার ব্যাপারে সম্মত হয়, সে বৈঠক দেশ দুটির কোনোটিতেই অনুষ্ঠিত হয়নি। সৌদি ও ইরানি শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেছিলেন বেইজিংয়ে। ওই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল চীন। এর আগে বেশ কয়েকবার সৌদি আরব ও ইরানকে শত্রুতা ভুলে এক টেবিলে বসাতে চেয়েছিল ওমান ও ইরাক। তারা পারেনি কিন্তু চীন ঠিকই পেরেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি যাতে বিপর্যয়ের সম্মুখীন না হয়, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় চীন। ইউক্রেনে আগ্রাসন কেন এ প্রশ্ন মস্কোকে করা সম্ভব হয়নি বেইজিংয়ের। তার এই প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত ও নিষেধাজ্ঞাকালে রাশিয়ার অর্থনীতি চাঙা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় পশ্চিমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত চীন। এমন পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ঝান্ডা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে দেশটি। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত সমাধান চেষ্টায় চীন নিজেকে কখনো সেভাবে জড়ায়নি। এটাই তার পররাষ্ট্রনীতি। সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে চীন বিশ্বকে এই বার্তা দিল, সে তার পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন এনেছে। আগের মতো দূর থেকে পর্যবেক্ষক হয়ে থাকবে না দেশটি। এর মধ্যে চীনকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে দেখা গেছে। এপ্রিলে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার বৈঠকের আগে বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ নামে একটি পদক্ষেপের ঘোষণা দেয় দেশটি। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিরাজমান দ্বন্দ্ব ও ভিন্নতার শান্তিপূর্ণ মীমাংসা। ঘোষণাটির পর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে চীনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিন গ্যান জানান, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে রাজি আছে তারা। এ বিষয়ে জার্মানির গবেষণা সংস্থা আর্নল্ড-বার্গসট্রেসার ইনস্টিটিউট ফ্রাইবার্গের সহযোগী ফেলো জুলিয়া গুরোল-হলার বলেন, ‘সৌদি-ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বেইজিংয়ের ভূমিকা গোটা মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম কদম হতে পারে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আগের চেয়ে আরও বড় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে চীন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে চীন এমন সময়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে যখন সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আগের মতো নেই। ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা, সৌদি আরবের সঙ্গে এই শীতল এই উষ্ণ সম্পর্ক এবং বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে মার্কিন সেনাদের ইরাক ও আফগানিস্তান ত্যাগ এসব ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে একসময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে নখদন্তহীন বাঘে পরিণত করেছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও মার্কিন প্রশাসনকে ভাবাচ্ছে। বৈশ্বিক মোড়ল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে যে ভূমিকা পালন করেছে, সেখান থেকে তার পশ্চাদপসরণে উদ্বিগ্ন দেশটির সাধারণ জনগণ। তবে অনেকে এ প্রশ্নও করছেন, যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, চীন কি সেভাবে পারবে? এর উত্তরে বিশেষজ্ঞরা জানান, চীন দ্রুত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী দেশে পরিণত হলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরানোর ক্ষমতা তার এখনো হয়নি। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন সামরিক ঘাঁটি আছে। একই সঙ্গে আছে বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিপদে তাকে ছেড়ে যাবে না। এসব বাস্তবতা চীন খুব ভালোভাবেই জানে। তাই এ মুহূর্তে দেশটি চাইছে মধ্যপ্রাচ্যে তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের বিস্তার ঘটাতে, যা তাকে আখেরে লাভবান করবে।

সুবিধাজনক অবস্থানে চীন

সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই চীন নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করে। দেশটি সৌদি আরব ও ইরানের শীর্ষ ব্যবসায়িক অংশীদার। ইরান ও সৌদি আরবের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের ওই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করে। ২০২১ সালে ইরানের সঙ্গে ২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে চীন। এর পরের বছর দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করে। তবে চীনের এসব পদক্ষেপ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশ ইরান আর সৌদি আরবের মন পাওয়ার জন্য নয়। তার ভিন্ন স্বার্থ আছে। ২০১৩ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) নামে বৈশ্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন কৌশল হাতে নেয় চীন সরকার। চীনসমর্থিত বন্দর, রেলওয়ে, মহাসড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকাকে সংযুক্ত করা হবে ওই উদ্যোগে। বিআরআইকে সফল করার জন্য ইরান ও সৌদি আরবকে চীনের দরকার। ২০০৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ২৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে চীন। ওই অঞ্চলে চীনই এখন সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ। ইরাক থেকে তেল ও কাতার থেকে গ্যাস কিনছে চীন। পাশাপাশি সৌদি আরব, মিসর, আলজেরিয়া, মরক্কো ও তুরস্কে অস্ত্র রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে দেশটি। কায়রোর বাইরে নতুন রাজধানী নির্মাণে মিসরকে সহযোগিতা করছে চীন। এ ছাড়া সৌদি আরবের মকায় মেট্রোরেল নির্মাণেও সহায়তা করছে দেশটি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং সৌদি আরবে তিন দিনের সফর করেন। ওই সময় তিনি আরব লিগ ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সম্মেলনে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সফরকে দেশ দুটির সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে সাম্প্রতিক বছরে প্রযুক্তি খাতে চীনের অভাবনীয় অগ্রগতি এই বার্তা দেয় যে, হুয়াওয়েসহ নিজেদের অন্যান্য কোম্পানির মাধ্যমে ৫জি সেবাসহ আরও সেবা বিশ্ববাসীকে দিতে সক্ষম তারা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সহসভাপতি ট্রিটা পারসি বলেন, ‘অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে চীনের বর্তমান পরিস্থিতি দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যে আপনাআপনিই সুবিধাজনক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। এ কারণে সৌদি আরব ও ইরানকে শীতল সম্পর্ক থেকে বের করে আনতে অন্য দেশগুলো ব্যর্থ হলেও চীন ব্যর্থ হয়নি। অর্থনৈতিক কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে।’ এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চীনের পররাষ্ট্রনীতিও দেশটিকে লাভবান করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যে চীনকে আদর্শগতভাবে বাণিজ্যের নিরপেক্ষ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই অঞ্চলের রাজনীতি থেকে শুরু করে মানবাধিকার নিয়ে চীন মাথা ঘামায় না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার চীনের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের থেকে ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ওই অঞ্চলের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে, তাদের চাপে রাখে। চীন পশ্চিমাদের মতো আচরণ না করায় তাকে স্বস্তিদায়ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখে তারা।

এ বিষয়ে গবেষক ট্রিটা পারসি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চীনকে স্বাগত জানিয়েছে, তার কারণ কেবল এটি নয় যে, দেশটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। চীন এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যে তরিকায় এগোচ্ছে, তাতে তাকে বিপজ্জনক মনে হয়নি তাদের। বা ভবিষ্যতে চীন তাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে, এমন আশঙ্কাও তারা করছেন না। এটাই বলতে গেলে মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বর্তমান অবস্থানের। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন ঘটেনি। বিশেষ করে গত বছর রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তারা দেখেছে, তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ দিনের মধ্যে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এটিকে তারা হুমকি হিসেবে দেখবে, এটাই স্বাভাবিক।’

চীনের ভিন্ন চিন্তা

সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফ্যান হোংডা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থানে আছে, সে পর্যায়ে যেতে চাইছে না চীন। দেশটির আগ্রহ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক প্রভাব ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বাস্তবায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ দুই বিষয়ে চীন সফলতা চায়। সফল হলেই সে খুশি থাকবে। এ মুহূর্তে তার এর চেয়ে বেশি কিছু মধ্যপ্রাচ্য থেকে চাওয়ার নেই। আমাদের মনে রাখা জরুরি, চীন কখনোই মধ্যপ্রাচ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেনি। সে ধরনের কোনো ইচ্ছা তার মধ্যে দেখা যায়নি। আমি মনে করি না, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে হটানোর কোনো পরিকল্পনা বেইজিংয়ের আছে। কারণ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নানা তৎপরতা চীনের সঙ্গে যায় না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে চীন তার মতো করে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বলে মনে করি।’

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধসহ দেশে দেশে চলমান সংঘাতে চীন আর যুক্তরাষ্ট্র বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে। চীন চায়, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় থাকুক। অন্যদিকে আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরাতে উদগ্রীব যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের যেমন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের উৎখাতে সহযোগিতা করার দীর্ঘ ইতিহাস আছে, চীনের তা নেই। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিন ডজনের বেশি সামরিক ঘাঁটি আছে, সেটিও চীনের নেই। তবে ইতিহাস নেই বলে যে ইতিহাস সৃষ্টি করা যায় না, তা তো নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন নাটকীয়ভাবে তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে এবং প্রতিবেশী দেশে সেই সক্ষমতার প্রদর্শন তাকে প্রায়ই করতে দেখা যায়। ২০১৭ সালে চীনের সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে প্রথম দেশের বাইরে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে চীন সম্ভবত একটি নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে বলে চার বছর পর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। আমিরাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর ওই ঘাঁটি নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতে, ‘প্রথমে বেসামরিক, তারপর সামরিক’ নীতি মেনে চলছে চীন। বন্দর, রেলওয়ে, বিমানবন্দরের মতো অবকাঠামো নির্মাণে আপাতত মনোযোগ দেশটির। এরপর হয়তো পুরোদমে সামরিক স্থাপনা নির্মাণে মনোযোগ দেবে চীন সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত