পাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

আপডেট : ২১ মে ২০২৩, ১২:২৭ এএম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) প্রথম বর্ষের গুচ্ছভিত্তিক ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের সামনে এ সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবুর অনুসারী মিনহাজুল প্রান্ত আর সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহর অনুসারী সাব্বিরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। সেখানে সভাপতির অনুসারীরা সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের গায়ে হাত তোলে। এই নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে পরীক্ষা শেষ হলে দুপুর পৌনে ২টার দিকে দুই গ্রুপ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। থেমে থেমে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে এই সংঘর্ষ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত দুই শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে একটা ঝামেলা হয়। তার জেরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবুর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করে শিক্ষার্থীদের। হামলায় আহতদের বেশিরভাগই সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল্লাহ গ্রুপের সমর্থক।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তি পরীক্ষার দিনে ছাত্রলীগের মারামারি করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা হবে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা নাজমুল হোসেন বলেন, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বসেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

পাবনা সদর থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, আমরা সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। এখন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ নিজেরা নিজেরাই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝামেলায় জড়িয়েছে।

তবে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের বিষয় অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবু। তিনি  বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে এ সংঘর্ষ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পরে।

সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বলেন, এটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। এই ঘটনা ঘটার পর আমরা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুজনেই ক্যাম্পাসে আসি। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। আশা করি এ ধরনের ঘটনা সামনে ঘটবে না।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের কথা বললেও অজ্ঞাত কারণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি গোপন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামাল হোসেন বলেন, ছাত্রদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হতে আমরা শুনে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপক্ষের সঙ্গে আমরা বসেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবেন। এখন আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (অপরাধ) জিয়াউর রহমান বলেন, ঘটনা শুনে আমরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছি। দুই গ্রুপকে শান্ত করার চেষ্টা করছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত