সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঘরেই ঘনিয়ে আসছে বিপদ!

আপডেট : ২৫ মে ২০২৩, ১০:৪৬ পিএম

২০১৪ সালের পর থেকে ইউক্রেনে রুশভাষীদের ওপর কিয়েভের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করেছিল রাশিয়া। মস্কোর অভিযোগ ছিল ইউক্রেনের উগ্র-জাতীয়তাবাদীরা দেশটির পূর্বাঞ্চলের রুশ সীমান্ত সংলগ্ন লুহানস্ক, দোনেৎস্কে জাতিগতভাবে রুশদের বিরুদ্ধে নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। এই নিধনযজ্ঞের সঙ্গে জড়িতদের নব্য নাৎসি হিসেবে অভিহিত করে মস্কো। ইউক্রেনের তথাকথিত এ নাৎসিদের বিরুদ্ধে বিশেষ সামরিক অভিযানে বড় এলাকা দখলে এনেছে রাশিয়া।

কিন্তু ঝুঁকি বাড়ছে খোদ রাশিয়ার মাটিতে। যুদ্ধ শুরুর পর সাম্প্রতিক সময়ে ১৩ দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ার ভেতরে। এর মধ্যে সর্বশেষ সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটে গত সোমবার ইউক্রেনের সীমান্তঘেঁষা রুশ অঞ্চল বেলগোরোদে। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনের সন্ত্রাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের সাঁজোয়াযান নিয়ে রুশ মাটিতে এ হামলা চালায়। হামলাকারী ৭০ ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা ও বাকিদের বিতাড়িত করার কথা নিশ্চিত করে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এ হামলাই শেষ নয়। ইউক্রেন ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বেলগোরোদে আসলে ইউক্রেনীয়রা নয়, হামলা চালিয়েছে পুতিনবিরোধী দুটি রুশ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। বেলগোরোদে গত সোমবারের (২২ মে) আন্তঃসীমান্ত হামলার দায় স্বীকার করেছে রুশ ভলান্টিয়ার কর্পস (আরডিকে) ও লিবার্টি রাশিয়া লিজিয়ন (এলএসআর)। ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় অনুপ্রবেশ করে অঞ্চলটিতে হামলা চালায় তারা।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে আরডিকে নেতা দেনিস কাপুস্তিন জানান, বেলগোরোদের পর রাশিয়ার মাটিতে আরও হামলার পরিকল্পনা করছে তারা।

দেনিস কাপুস্তিনের পরিচয় নিয়ে নানা সংবাদমাধ্যম নানা তথ্য দিলেও প্রায় সব প্রতিবেদনে তাকে উগ্র-জাতীয়তাবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো কাপুস্তিনকে পুতিনবিরোধী রুশ নাগরিক বললেও তিনি ইউক্রেনীয় উগ্র-জাতীয়তাবাদের সমর্থক নব্য-নাৎসি চিন্তার বলে জানিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। সিএনএন বলছে, স্বপ্রণোদিত এই গ্রুপগুলো যুদ্ধে নিজেরাই পুতিনের বিরুদ্ধে লড়ছে। এজন্য তারা ইউক্রেনের নির্দেশনাও মানছে না।

রাশিয়ার মাটিতে ঘনিয়ে আসা বিপদ উড়িয়ে দিচ্ছেন না সম্প্রতি রাশিয়ার হয়ে বাখমুত জয়ের নায়ক ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন। তিনি রাশিয়ার সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘রাশিয়ার নেতারা যদি যুদ্ধ পরিচালনা পদ্ধতিতে উন্নতি করতে না পারেন, তবে তাদের আরও একটি বিপ্লবের মুখোমুখি হতে হবে। এতে বর্তমান শাসকদের ক্ষমতার আসন নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে নিজস্ব চ্যানেলে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ওয়াগনার প্রধান এ দাবি করেন। ওয়াগনার প্রধান আরও জানান, তিনি দেখতে পেয়েছেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রেও সামাজিক বৈষম্য হাজির হয়েছে। তিনি বলেন, গরিব ঘরের সেনারা মারা যাওয়ার পর তাদের স্রেফ জিংক কফিনে ভরে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বিপরীতে বড়লোকদের সন্তানরা দেশে রাজার হালতে আছে। প্রিগোজিন সতর্ক করে বলেন, ‘এই বিভাজন আবারও ১৯১৭ সালের মতো একটি বিপ্লব দিয়ে শেষ হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘প্রথমে সৈন্যরা উঠে দাঁড়াবে, তারপর তাদের প্রিয়জনরা উঠে দাঁড়াবে।’

এদিকে রাশিয়ার ভেতরে ঘনিয়ে আসা বিপদের হুমকি ও সতর্কবাণীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারাও রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা-ঝুঁকি নিয়ে ভীতি বাড়িয়ে দিল। সম্প্রতি রাশিয়ার একেবারে কেন্দ্রে নিñিদ্র নিরাপত্তার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বাসভবনের ওপরও চালানো হয় ড্রোন হামলা। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, সম্ভবত ওই ড্রোন হামলা ইউক্রেনীয়রাই চালিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত