১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এক সন্দেহভাজনকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০ বছর ধরে পালিয়ে থাকা ওই সন্দেহভাজনের নাম ফুলজেন্স কাইশেমা।
রুয়ান্ডার যুদ্ধাপরাধের জন্য গঠিত জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার (২৫ মে) এ খবর জানিয়েছে।
এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে বলেছে, পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে থেকে ২০০১ সালে পালিয়ে যান সন্দেহভাজন ফুলজেন্স কাইশেমা।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গঠিত ইন্টারন্যাশনাল রেসিডুয়াল মেশিনিজম ফর ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল (এমআইসিটি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এক যৌথ অভিযানে বুধবার বিকেলে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্ল থেকে ফুলজেন্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এমআইসিটি যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
এমআইসিটি আরও জানায়, রুয়ান্ডায় গণহত্যার সময় নায়াঙ্গে ক্যাথলিক চার্চে প্রায় ২ হাজার জাতিগত তুতসিকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে ফুলজেন্স কাইশেমার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পলাতক ছিলেন তিনি । তার এই গ্রেপ্তার নিশ্চিত করেছে যে, কথিত অপরাধের জন্য অবশেষে ন্যায় বিচারের মুখোমুখি হবেন তিনি।
এদিকে দেশটির রাজনীতি বিশেষজ্ঞ গেটেতে রুহুমুলিজা বলেছেন, ওই গণহত্যা সংঘটনের পেছনে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ ছিল কাইশেমার। তখন ফুলজেন্স জুডিশিয়াল পুলিশ ইন্সপেক্টর ছিলেন।
রুয়ান্ডার জন্য গঠিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০০১ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। ফুলজেন্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, রুয়ান্ডার কিবুয়ে জেলায় একটি ক্যাথলিক চার্চে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশুসহ দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছিলেন তিনি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভূক্ত পলাতক ছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে রুয়ান্ডায় ওই গণহত্যা চালানো হয় । এতে আট লাখেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল তখন । ওই সময় হত্যাকাণ্ডের শিকারদের বেশির ভাগই ছিলেন জাতিগত তুতস ।
