রংপুরের পীরগঞ্জে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পে বিভিন্ন পদে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনেক চাকরি প্রত্যাশী আবেদন করলেও তাদের অবগত না করায় পীরগঞ্জ পৌর মেয়রকে গত ২৫ এপ্রিল লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের কপি দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও। এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট-২ পর্যায়ে প্রকল্পটি খুলনার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ‘উন্নয়ন’ পীরগঞ্জে কাজ শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার এবং এডিবির অর্থায়নে পৌরসভায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট-২ পর্যায় গ্রহণ করা হয়। এবারে দেশের ৭টি পৌরসভায় প্রকল্পটি ১৪ মাস মেয়াদে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট পৌর মেয়র প্রকল্পের কাজ তদারকি করবেন। পীরগঞ্জ পৌরসভায় খুলনার এনজিও ‘উন্নয়ন’ গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ পায়। গত ২৪ এপ্রিল খুলনার একটি স্থানীয় পত্রিকায় ১২টি পদে ১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর চাকরি প্রত্যাশীরা আবেদন করলেও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অনেককে অবগত করা হয়নি।
অপরদিকে, অনেক আবেদনকারীকে মোবাইল ফোনে ডেকে পীরগঞ্জে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে বলে অভিযোগকারী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত স্বল্প খরচে গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পটির পীরগঞ্জ উপজেলা প্রজেক্ট ম্যানেজার (পিএম) ওয়াজেদ আলী বলেন, আমাকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পীরগঞ্জে যোগদান করতে বলা হয়েছে। আমরা শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করব।
পীরগঞ্জ পৌর মেয়র এ এস এম তাজিমুল ইসলাম শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলজিইডির প্রকল্পটিতে কর্ম এলাকার পৌর মেয়র পদাধিকার বলে তদারকি করবে। কিন্তু আমাকে না জানিয়েই খুলনার স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে খুলনা, যশোর এলাকার অধিকাংশ লোক নিয়োগ করেছে। এখানে পীরগঞ্জের লোকজন বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ১২টি পদে ১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার স্থলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ৬৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার পীরগঞ্জের অনেকে আবেদন করলেও তাদের অবগত করা হয়নি বলে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।
প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইডি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিধি মোতাবেক নিয়োগ এবং কাজ শুরু করেছি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প দাখিলের সময় বিভিন্ন পদে জমা দেওয়া সিভি অনুযায়ী সরকার নিয়োগ দিয়েছে। এখানে অনিয়ম কিংবা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই।
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, এনজিওর কাছে কাগজপত্র চেয়েছি।
