বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে স্ট্রাইকিং ফোর্স দুদকের

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩, ০৬:০৬ এএম

বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে উচ্চপর্যায়ের স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করেছে সংস্থাটি। দুদকের গোয়েন্দা টিমপ্রধান ও পরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদকে প্রধান করে আট সদস্যের স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, গত ১৮ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিশন সভায় স্ট্রাইকিং ফোর্স বা বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। যেখানে আলোচনা হয় দুর্নীতিবাজদের তাৎক্ষণিক আইনের আওতায় আনার জন্য কমিশনে সার্বক্ষণিক স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা দরকার। কমিশনের বিশেষ তদন্ত বিভাগের অধীন দক্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। আর ওই বিশেষ টিম সাধারণ অনুসন্ধান ও তদন্তকাজে সম্পৃক্ত থাকবে না। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, স্পর্শকাতর ও উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি ধরতে স্ট্রাইকিং ফোর্স ৮ সদস্যের কমিটি ইচ্ছা করলে প্রয়োজনীয় আরও কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে। যাতে করে বড় দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ৮ সদস্যের স্ট্রাইকিং ফোর্সের সমন্বয়ক হিসেবে রাখা হয়েছে মানিলন্ডারিং বিভাগের পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরীকে। টিমের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন দুদক উপপরিচালক ফারুক আহমেদ (বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান), উপপরিচালক সেলিনা আখতার মনি (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩), উপপরিচালক নাজমুল হোসাইন (মানিলন্ডারিং), উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামূল আহসান গাজী (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-২) ও মোহাম্মদ নূর আলম সিদ্দিকী (মানি লন্ডারিং)।

গতকাল সোমবার দুদক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান জানান, ডাইরেক্ট অ্যাকশন বলে একটি কথা আছে। স্ট্রাইকিং ফোর্সের মাধ্যমে সে রকম একটি সেন্স তৈরি করতে চাচ্ছি। দুর্নীতি হলে সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, ওয়ান-ইলেভেনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ ধরনের স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করেছিল দুদক। যদিও পরে সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ধরতে টিম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন হয়েছিল। এই টিমের উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি সেবা খাতে দুর্নীতি দমনে কাজ করা। প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা। ওই প্রাতিষ্ঠানিক টিম সিভিল অ্যাভিয়েশন ও বিমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ওয়াসা, তিতাস, রাজউক, ডেসা, বিটিসিএল, ডাক বিভাগ, বিআরটিএ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআরটিসি, সিটি করপোরেশনসহ ২৫টি দপ্তরে দুর্নীতির বিষয়ে সরেজমিন অনুসন্ধান করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত