দুই হাজার টাকা ন্যূনতম করের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা থামছেই না

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩, ০৮:৫২ পিএম

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে যে কয়টি বিষয় খুব বেশি আলোচনা ছিল বা জনসাধারণের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তার মধ্যে দুই হাজার টাকা ন্যূনতম কর। সারা দেশে তুমুল আলোচনায় আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো বক্তব্য দিয়েছিলেন রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের চেয়ারম্যান বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনের বিপরীতে দুই হাজার টাকা ন্যূনতম কর আদায়ের প্রস্তাবটিকে কেউ কেউ বৈষম্যমূলক বললেও এ নিয়মে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে না। যাদের ক্ষেত্রে টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক, সেই শ্রেণির মানুষদের জন্য এই ন্যূনতম কর বোঝা হওয়ার কথা নয়।

এর একদিন পরই শনিবার এটিকে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ। শনিবার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস ফোরামের এক আলোচনায় তিনি বলেন, ব্যক্তি করমুক্ত আয়ের সীমা যেটা সাড়ে ৩ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু দুই হাজার টাকা যা মিনিমাম কর ধরা হয়েছে এটা কেন? রিটার্ন দিলেই দুই হাজার টাকা দিতে হবে। এটাকে আমার সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৬ শতাংশ। বর্তমানে রয়েছে ৯ শতাংশ, এটা ৬ শতাংশে আনা সম্ভব না। বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

অবশ্য একইদিনে আরেক আলোচনায় বিপরীত বক্তব্যে সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদদের সংগঠন দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) নেতারা প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। আইসিএবির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, এই টাকা তো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে। এ জন্য আমাদের গর্ব করা উচিত। বেতনের সঙ্গে এটার কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টা করজাল বাড়ানোর জন্য একটা নিজস্ব উদ্ভাবনী উদ্যোগ।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যখন থেকে ই-টিআইএন চালু হয়েছে, তখন থেকেই এই দুই হাজার টাকার নিয়ম চালু করা প্রয়োজন ছিল।

আইসিএবির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, একটা সেবা (রিটার্ন ডকুমেন্ট) কি সরকারি প্রতিষ্ঠান বিনা পয়সায় দিয়ে দেবে? তারা ই-টিআইএন চালু করল, সিস্টেম তৈরি করল, ব্যক্তির আয়কর হিসাবের ফাইল তৈরি করল– এসব সেবা কি এমনি এমনি হয়ে যাবে। আর আপনি যদি রিটার্ন জমা না দেন, তাহলে আপনার থেকে দুই হাজার টাকা নেবে কী করে?

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫ ধারা অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে, এমন করদাতার আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম না করলেও আয়ের পরিমাণ নির্বিশেষে ন্যূনতম করের পরিমাণ দুই হাজার টাকা হবে। বর্তমানে ৩৮ ধরনের সেবা নিতে হলে রিটার্ন জমার রসিদ লাগে। ফলে নতুন প্রস্তাব অনুসারে, এসব সেবা নিতে হলে রিটার্ন জমার জন্য ন্যূনতম দুই হাজার টাকা কর দিতে হবে।

সরকারের এমন প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এর মধ্যে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং নৈতিক নয়।

এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইসিএবির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক মতামত দেওয়ার সুযোগটা কম। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, থিংকট্যাংক বা অন্য যারাই এটা নিয়ে সমালোচনা করছেন, তারা এই সিদ্ধা‡ন্তর গভীরতা বিশ্লেষণ করেননি।

অবশ্য বাজেটের পরদিন শুক্রবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, দুই হাজার টাকা ন্যূনতম কর সরকার কেন নির্ধারণ করেছে, এটার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত