হজ-ওমরা এমন একটি ইবাদত, যা সব সময় করা হয় না, তাই এর মাসয়ালাগুলো মানুষের কাছে স্পষ্ট থাকে না, ফলে অনেক ভুলভ্রান্তি হয়। এখানে এমন কিছু ভুলভ্রান্তি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-
তাওয়াফ অবস্থার ভ্রান্তিসমূহ
তাওয়াফে নির্দিষ্ট দোয়াকে জরুরি মনে করা : অনেকে তাওয়াফের প্রতি চক্করের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নির্দিষ্ট দোয়া পড়াকে জরুরি মনে করেন, তাওয়াফ অবস্থায় নির্দিষ্ট দোয়া পড়া জরুরি নয়, রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যে ‘রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাহ...’ এই দোয়া পড়া উত্তম, এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, এ ছাড়া পুরো তাওয়াফে কোরআন-হাদিস বা সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত যেকোনো দোয়া পড়া যেতে পারে, তেমনিভাবে অন্য যেকোনো ভালো অর্থবোধক দোয়াও পড়া যেতে পারে, দোয়া আরবিতে করাও জরুরি নয়, নিজের ভাষায় করা যেতে পারে।
জামাতবদ্ধ হয়ে তাওয়াফ করা : অনেকে জামাতবদ্ধ হয়ে তাওয়াফ করেন এবং জামাতের মধ্যে একজন মুখস্থ বা দেখে দেখে উঁচু আওয়াজে দোয়া পড়েন আর তার সঙ্গে পুরো জামাত সমস্বরে দোয়া পড়তে থাকে, এটা ঠিক নয়।
তাওয়াফ অবস্থায় কাবা শরিফের দিকে বুক ফেরানো : তাওয়াফকারী পুরো তাওয়াফ অবস্থায় বায়তুল্লাহকে বাঁ পাশে রেখে চলবেন, শুধু রুকনে ইয়ামানি ছোঁয়ার সময় (যদি ছোঁয়া সম্ভব হয়) যেহেতু উভয় হাত কিংবা ডান হাতে বায়তুল্লাহ স্পর্শ করতে হবে, তাই তখন বায়তুল্লাহর দিকে সিনা ফেরানো যাবে, কিন্তু সিনা বায়তুল্লাহর দিকে করলে ওই স্থান থেকেই আবার বায়তুল্লাহ বাঁ দিকে রেখে তাওয়াফ শুরু করতে হবে, তারপর হাজরে আসওয়াদের কাছে গিয়ে আবার সেদিকে ফিরবেন।
নফল তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ না পড়া বা বিলম্বে পড়া : অনেককে দেখা যায়, একের পর এক নফল তাওয়াফ করতেই থাকেন, একটি তওয়াফ শেষ হলে তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজ পড়েন না, অথচ ফরজ ও ওয়াজিব তাওয়াফের মতো নফল তাওয়াফের পরও দুই রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব এবং বিনা ওজরে একাধিক তাওয়াফের নামাজকে একত্রে পড়া মাকরুহ।
মাকামে ইবরাহিমকে পেছনে রেখে নামাজ পড়া : এ দুই রাকাত নামাজ মাকামে ইবরাহিমকে সামনে রেখে পড়া সুন্নত, কিন্তু অনেককে দেখা যায়, মাকামে ইবরাহিমকে পেছনে রেখে মাকামে ইবরাহিম ও বায়তুল্লাহর মাঝের ফাঁকা জায়গায় নামাজ পড়েন, এতে সেই সুন্নত আদায় হয় না।
আরও পড়ুন— ইহরাম বাঁধার ক্ষেত্রে যেসব ভুল হয়
