হজ-ওমরা এমন একটি ইবাদত, যা সব সময় করা হয় না, তাই এর মাসয়ালাগুলো মানুষের কাছে স্পষ্ট থাকে না, ফলে অনেক ভুলভ্রান্তি হয়। এখানে এমন কিছু ভুলভ্রান্তি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-
ইহরাম বাঁধার ক্ষেত্রে যেসব ভুল হয়
অনেকে মনে করেন, ইহরামের কাপড় পরে নামাজ পড়ার পর নিয়ত করলেই ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যায়, এই ধারণা ভুল। বরং নিয়তের পর অবশ্যই তালবিয়া পড়তে হবে, ইহরাম সম্পন্ন হওয়ার জন্য নিয়ত ও তালবিয়া দুটিই জরুরি।
কেউ কেউ আগে থেকেই ইহরাম বাঁধা ঝামেলা মনে করে ভাবেন, ইহরাম বেঁধে নিলেই তো ইহরামের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়ে যাবে, বিমান যেহেতু জেদ্দায় অবতরণ করবে, তাই জেদ্দায় ইহরাম বাঁধার ইচ্ছায় ইহরামকে বিলম্বিত করেন। অথচ মিকাতের বাইরের হজযাত্রীদের জন্য ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করা জায়েজ নেই।
ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করা যাবে না মনে করা : কেউ কেউ মনে করেন, যে কাপড়ে ইহরাম বাঁধা হয়েছে, সেই কাপড় হালাল (ইহরাম শেষ) হওয়ার আগ পর্যন্ত বদলানো যাবে না, এটা একটা ভুল ধারণা, ওই কাপড় নাপাক না হলেও বদলানো যাবে।
তাওয়াফের সময় ছাড়াও ইজতিবা করা : অনেককে দেখা যায়, ইহরামের প্রথম থেকেই ইজতিবা (বাঁ কাঁধের ওপর চাদর রেখে ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে পরিধান করা) করে থাকেন এবং হালাল হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থায় থাকাকে ইসলামের বিধান মনে করেন, এটি ভুল, এভাবে নামাজ পড়লে নামাজ মাকরুহ হবে, সব তাওয়াফেও এটি সুন্নত নয়; বরং যে তাওয়াফের পর সায়ি করতে হয়, শুধু সেই তাওয়াফেই ইজতিবা করতে হয়, অতএব, নফল তাওয়াফে ইজতিবা নেই।
ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত বায়তুল্লাহ স্পর্শ করা : বায়তুল্লাহর দেয়ালে ও গিলাফে নিচ থেকে সাত-আট ফুট পরিমাণ চারদিকেই সুগন্ধি লাগানো থাকে, তাই যেকোনো অংশে হাত লাগানোর দ্বারা হাতে সুগন্ধি লেগে যায়, যা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ।
বায়তুল্লাহর যত্রতত্র চুম্বন, স্পর্শ ও আলিঙ্গন করা : হজরত রাসুল (সা.) ও সাহাবা-তাবেঈন থেকে কেবল সীমিত কিছু স্থান স্পর্শ করা আর কিছু ক্ষেত্রে চুমু খাওয়ার কথা বর্ণিত আছে, যেমন- হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ করা, চুমু খাওয়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, তেমনি বায়তুল্লাহর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ রুকনে ইয়ামানিতে ডান হাত বা উভয় হাত দ্বারা স্পর্শ করা সুন্নত, কেউ কেউ চুমু খাওয়ার কথাও বলেছেন, এবং মুলতাজাম, যেটি হাজরে আসওয়াদ থেকে বায়তুল্লাহর দরজা পর্যন্ত স্থান, এখানে সিনা, গাল ও উভয় হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে দোয়া করার কথা হাদিসে বর্ণিত আছে, কাবাঘরের দরজার চৌকাঠ ধরা এবং দোয়া করার কথাও হাদিসে আছে, এর বাইরে কোথাও স্পর্শ করার কথা নেই।
আরও পড়ুন— তাওয়াফ অবস্থার ভ্রান্তিসমূহ
