রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল পরিচালনায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা নি¤œগামী হয়েছে এবং সুনাম ক্ষুণœ হয়েছে। রোগীর পরিমাণ ও হাসপাতালের আয় কমেছে। পাশাপাশি ক্রমেই একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের এমন পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর গবেষণা প্রতিবেদনে।
‘হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন গতকাল রবিবার প্রকাশ করা হয়েছে। এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালটিতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের মূলনীতির পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বিনষ্ট করছে। হাসপাতালটির সুশাসনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ১৪ দফা সুপারিশও করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। লাইসেন্স নিয়মিত নবায়ন করা হচ্ছে না। সর্বশেষ ২০২১ সালে তিন বছরের বকেয়া নবায়ন একত্রে করা হয়েছিল। হাসপাতালের পরিচালকের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান। রাজনৈতিকভাবে প্রশাসনিক কাজে প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (গবেষণা ও পলিসি) মুহাম্মদ বদিউজ্জামান ও মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন টিআইবির কনসালট্যান্ট তাসলিমা আক্তার ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (গবেষণা ও পলিসি গবেষণা) মো. মাহ্ফুজুল হক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তরিত হলেও লিভার, গলব্লাডার, পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয়ের অবস্থা নির্ণয়, পাথর অপসারণে ইআরসিপি যন্ত্র, এমআরআই যন্ত্র, চক্ষু ও ডেন্টাল ইউনিটে যন্ত্রপাতি, স্কিনের চিকিৎসায় লেজার যন্ত্র, মেমোগ্রাফি, বায়োপসি, টিবি পরীক্ষার যন্ত্রসহ জটিল রোগের চিকিৎসাব্যবস্থা নেই।
এ ছাড়া ৫২৮ শয্যার হাসপাতালটিতে ৬৫২ জনের বেশি জনবল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জনের বেশি প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগের ফলে প্রশাসনিক কাজে প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি রয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি উল্লেখ করে, হাসপাতালে একটানা পাঁচ থেকে সাত মাসের বেতন বকেয়া থাকার নজির রয়েছে।
