বরগুনা সদরঘাট মসজিদের সভাপতির পদ থেকে ডিসির পদত্যাগ!

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩, ০৯:০২ পিএম

দাপ্তরিক কাজ বৃদ্ধি ও বিবিধ ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে বরগুনা সদরঘাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নির্বাহী কমিটির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বরগুনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হাবিবুর রহমান। এর আগে একই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন অর্থ সম্পাদক আবুল হোসেন। এদিকে ডিসির পদত্যাগ নিয়ে সাধারণ মুসল্লি ও কমিটির সদস্যদের মধ্যে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জুন) প্রকাশ্যে আসা জেলা প্রশাসক (ডিসি) হাবিবুর রহমানের ২৬ জুন স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, বরগুনা সদরঘাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। বর্তমানে দাপ্তরিক কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়া ও বিবিধ কারণে জেলা প্রশাসকের পক্ষে সদরঘাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতির দায়ত্বি পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মসজিদের গঠনতন্ত্র পুন:সংশোধন করে সভাপতির পদে জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে অন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পদত্যাগ পত্রে অনুরোধ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা সদরঘাট মসজিদের নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে মতনৈক্যের কারণে সভাপতি জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হুমায়ুন কবিরের মধ্যে দুরত্ব তৈরি হয়। মুসল্লিদের অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী কমিটির আলোচনা ছাড়াই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন চৌধুরি নিজেদের খেয়াল খুশিমতো মসজিদের নকশা পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্টল নির্মাণ করেন। স্টল বরাদ্ধ বাবদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থও গ্রহণ করেন তারা। এসব বিষয়ে নির্বাহী কমিটি কিংবা সাধারণ পরিষদের কারও সাথেই কোন আলোচনা করা হয়নি। এছাড়াও মসজিদের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে চলে আসলেও অদ্যবধি ভবন নির্মাণের ব্যয় নিয়ে কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। আয় ব্যায়ের কোনো হিসাব এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন মুসল্লিরা। আয় ব্যায় সংক্রান্ত কোন হিসাব অর্থ সম্পাদককে না দেওয়ায় ডিসির পদত্যাগের কয়েকদিন আগেই অর্থ সম্পাদক আবুল হোসেনও পদত্যাগ করেন তার পদ থেকে।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বরগুনা সদরঘাট মসজিদ কমিটি মূলত দুই কক্ষ বিশিষ্ট। একটি নির্বাহী পরিষদ ও একটি সাধারণ পরিষদ। এর মধ্যে ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান নির্বাহী কমিটি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এতে সভাপতি হিসেবে পদাদিকার বলে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলহাজ্ব মো. হুমায়ুন কবির ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত কমিটি কালে ভদ্রে নির্বাহী কমিটির সভা করলেও অদ্যবধি সাধারণ পরিষদের কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ পরিষদ ও নির্বাহী কমিটিসহ মুসুল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মসজিদের সাধারণ পরিষদ সদস্য মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, মসজিদ নির্মাণ থেকে শুরু করে আজকে পর্যন্ত আয় ব্যায়ের কোনো হিসাব নিরক্ষণ করা হয়নি। সাধারণ কমিটির সদস্যরা বার্ষিক সাধারণ সভা ঢাকার জন্য অনুরোধ করা সত্ত্বেও সাধারণ সভা ঢাকা হয়নি। সাধারণ সদস্যদের কোন মূল্যায়নই এই কমিটির কাছে নেই। এছাড়াও আলমগীর হোসেন চৌধুরির বিরুদ্ধে মসজিদ পরিচালনার ক্ষেত্রে এর আগেও অনিয়ম দুর্নিতীর অভিযোগ রয়েছে।

মসজিদ কমিটির অর্থসম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, আমি ব্যক্তিগত কারণে অর্থ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। ভবন নির্মাণের অর্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে আমার সাথে নির্বাহী কমিটির কোনো আলোচনা হয়নি। তাদের আয় কিংবা ব্যয়ের কোনো তথ্যই আমার কাছে নেই।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. হুমায়ুন কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পদাদিকার বলে মসজিদের সভাপতি জেলা প্রশাসক। মসজিদ নির্মাণ শুরু হলে মসজিদের স্বার্থে সেখানে বাণিজ্যিক কিছু স্টল নির্মাণ করি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক নিষেধ করলে আমরা সেগুলো ভেঙে ফেলেছি। তারপরও কি কারণে তিনি এরকম পদত্যাগ করলেন সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, মসজিদ নির্মানে নকশা পরিবর্তন করে স্টল নির্মানের বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে কমিটির সাথে মতনৈক্যের সৃষ্টি হওয়ায় আমি পদত্যাগের সিদ্বান্ত নিয়েছি। যেখানে মতামতের কোন গুরুত্ব নেই সেখানে দায়িত্ব পালনের কোন প্রশ্নই আসে না। সেই সাথে আমি আমার মতামত কারো উপর জোর করে চাপিয়েও দিতে পারি না। তাই আমি নিজে থেকেই মসজিদের দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত