ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, পেশাদার অপরাধীরা জেলের মধ্যে থাকলে ফাঁকা রাজধানীতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা তেমন একটা ঘটবে না। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) মুহা. আশরাফুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপপুলিশ কমিশনার এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, গত এক মাস ধরে পেশাদার অপরাধী, সিঁদেল চোর, ছিনতাইকারী, মলম ও অজ্ঞান পার্টির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছি। এ পর্যন্ত ৬০০ পেশাদার অপরাধী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঈদের আগে যেন আসামিদের জামিন না হয়, সে ব্যবস্থার চেষ্টা করব। পেশাদার আসামিরা জেলের মধ্যে থাকলে ফাঁকা ঢাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা তেমন একটা ঘটবে না।
সড়ক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে নগর পুলিশপ্রধান জানান, প্রতি বছর ঈদের পর সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হয়। এ দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে আমরা দেখেছি, ড্রাইভাররা ট্রিপ নিয়ে বাড়িতে রেস্টে থাকেন। হেলপারদের গাড়ি দিয়ে দুই-চারটা ট্রিপ মারতে বলেন। হেলপাররা যখনই বাস-ট্রাক নিয়ে রাস্তায় বের হয়, তখনই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের বলব, ঈদের পর যে কয়দিন ড্রাইভার ছুটিতে থাকবে সে কয়দিন যেন গাড়ি বন্ধ থাকে। কোনো হেলপার যেন গাড়ি নিয়ে রাস্তায় না নামে। কোনো দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, এ বিষয়ে আপনারা সচেষ্ট থাকবেন। গত ঈদে আমরা সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ অনেক কমিয়ে নিয়ে এসেছি। আশা করব এই ঈদে দুর্ঘটনা পরিমাণ কমে আসবে।
গরুর হাটের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরে খোলা মাঠে তেমন একটা গরুর হাট নেই। তারপরও ঢাকাবাসীর সুবিধার্থে আমাদের দুই মেয়র ২১টি গরুর হাটের ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের গরুর হাট ম্যানেজ করেই যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। গাবতলীর হাটে দেখবেন গরুর জন্য গাড়ি চলাচলের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। হাটের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করেছি।
