আবার বাড়ছে নদ-নদীর পানি

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৩, ০৭:০৭ এএম

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে আবারও বাড়ছে সুরমা নদীর পানি। একই কারণে গাইবান্ধায় করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জে এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে বেড়েই চলছে হাওর ও নদীর পানি। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগের দিন শনিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। পৌর শহরের কাজির পয়েন্ট, ষোলঘর আরপিননগরে বৃষ্টির পানিতে ডুবেছে সড়ক।

পাহাড়ি ঢলে জেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুর সড়কের বিশ্বম্ভরপুর এলাকার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টের ১০০ মিটার সড়ক ডুবে গিয়ে বন্ধ রয়েছে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সরাসরি যান চলাচল।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদার জানান, সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত বেড়েছে।  ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি জানান, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

 জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী জানান, বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখন বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই; তারপরও যেকোনো বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

কয়েকদিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে গাইবান্ধায় করতোয়ার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীভাঙনের শঙ্কায় রয়েছেন নদীতীরবর্তী মানুষরা। করতোয়া ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঘাঘট ও তিস্তার পানি কমা অব্যাহত রয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে শনিবার বিকেল ৩টা থেকে গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়ার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়েছে। করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজলার তিস্তামুখ পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার ও তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার কমেছে।

করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্রের পানিবৃদ্ধির ফলে সদর, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদীবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে চর ও নদীপাড়ের মানুষরা। পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উনয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়ার পানি বাড়লেও তিস্তা ও ঘাঘটের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে কোনো নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, করতোয়া, তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত