জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘুমন্ত স্বামীর ওপর মরিচের গুঁড়া ও লবণ মেশানো গরম পানি ঢেলে রুবেল মিয়া (৩৮) নামের এক যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের সেংগুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ১৫ বছর আগে ধনবাড়ী উপজেলার কাঁঠালিয়াবাড়ীর নুরুল ইসলামের মেয়ে নাছিমা বেগমের সঙ্গে সরিষাবাড়ী উপজেলার আমজাদ ভুঁইয়ার ছেলে রুবেল মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে ২টি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরমধ্যে রুবেল সরিষাবাড়ী পৌর শহরের টারিয়াপাড়া এলাকায় রাশেদা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। রাশেদাকে বিয়ের পরে নাছিমাকে একাধিকবার তালাক দেন এবং আবার বিয়ে করেন রুবেল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছে। রুবেল নাছিমাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাছিমা ঘুমন্ত রুবেলের শরীরে মরিচের গুঁড়া ও লবণ মেশানো গরম পানি ঢেলে দিলে তার শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
রুবেলের ভাতিজা আব্দুর রশিদ বলেন, চাচার চিৎকারে আমি এগিয়ে যাই। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখি, চাচার ওপর গরম পানি ঢেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঝলসে দিয়েছে। চাচাকে হত্যার জন্য চাচী এ কাজ করেছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, তার অবস্থার অবনতি দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবীর খান বলেন, সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্ত নাছিমা পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
