বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক হিসেবে পরিচিত হলেও আদতে তিনি তা আবিষ্কার করেননি। তিনি দীর্ঘস্থায়ী ফিলামেন্ট আবিষ্কার করেছিলেন, যার ফলে বৈদ্যুতিক বাতি বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। আগে অত্যধিক তাপের কারণে ফিলামেন্ট স্থায়ী হতো না। তিনি উচ্চ গলনাংকের ধাতুর ফিলামেন্ট আবিষ্কার করেন, ফলে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার সহজ ও সুলভ হয়। তবে শুধু বৈদ্যুতিক বাতির ফিলামেন্ট আবিষ্কার দিয়ে এডিসনের আবিষ্কার প্রতিভা সম্পর্কে পুরোপুরি জানা যাবে না। একটি পরিসংখ্যান দিয়ে হয়তো তার আঁচ কিছুটা পাওয়া যাবে। তা হলো, টমাস আলভা এডিসনের নামে ১০৯৩টি আবিষ্কারের পেটেন্ট করা রয়েছে। এ থেকেই তার অতুল প্রতিভা সম্পর্কে কিছুটা বোঝা যায়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বোকাসোকা আর লেখায় দুর্বল হওয়ার অপরাধে এই এডিসন স্কুল থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। বোকাসোকা না হলেও অন্যদের তুলনায় অন্যরকম যে ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। না হলে কি আর কেউ বাচ্চা ফোটানোর জন্য মুরগির ডিমে তা দেয়? হ্যাঁ, টমাস আলভা এডিসন মুরগিকে দেখেছিলেন ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটাতে। কীভাবে এটা হয় তা বোঝার জন্য ছোট্ট এডিসন নিজেই বসে গিয়েছিলেন ডিমে তা দিতে। আসলে এডিসন ছিলেন ভীষণ কৌতূহলী। এমনকি তার প্রশ্নের জবাব অনেক সময় বড়দের কাছেও থাকত না। এদিকে বইয়ের মুখস্থবিদ্যার পড়াশোনা তার একদম ভালো লাগত না। ফলে শিক্ষকদের তিরস্কার ও শাস্তি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। একদিন অতিষ্ঠ হয়ে তারা এডিসনের হাতে একটি চিঠি ধরিয়ে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন। ছোট্ট এডিসন জানতেন না কী লেখা আছে চিঠিতে। মা চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন। এডিসন যখন জিজ্ঞেস করলেন চিঠিতে কী লেখা আছে, তখন মা চিঠিটি জোরে জোরে পড়লেন। তাতে লেখা ছিল, ‘আপনার সন্তান অত্যন্ত মেধাবী ও অগ্রসর। আমাদের স্কুলে তাকে পড়ানোর মতো উপযুক্ত শিক্ষক নেই। এই অপারগতা স্বীকার করে আমরা আপনাকে তার শেখার ভিন্ন ব্যবস্থা করার অনুরোধ করছি।’ এরপর তার মা নিজেই তাকে পড়াতেন।
তিনি যখন বড় হলেন, বড় বিজ্ঞানী হলেন সেই চিঠিটি পেয়েছিলেন। পড়ে দেখেন তাতে লেখা ছিল, ‘আপনার সন্তানের বুদ্ধি খুবই নিম্নস্তরের। সে এই স্কুলের উপযুক্ত নয়। তার শিক্ষার দায়িত্ব নিতে আমরা অপারগ।’ ছোটবেলায় তার মা এই চিঠির বক্তব্য উল্টে দিয়ে তাকে হীনমন্য হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন, বরং উৎসাহ দিয়েছিলেন তার পড়াশোনায়। আর তার ফলেই এডিসন হতে পেরেছিলেন সহস্রাধিক আবিষ্কারের জনক।
