মাতৃমৃত্যু ঠেকাতে ৮-৪-৪-৪-৪-৮

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৩, ০৪:৫৭ পিএম

কয়েকটি বিপদচিহ্ন যথাসময়ে বুঝতে পারলে গর্ভকালীন সময়ে অনেক মাকে (Pregnant women) মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যায়।
শুধুমাত্র কিছু সচেতনতার অভাব অনেক মাতৃমৃত্যুর করুন কারণ। আসুন, ৮-৪-৪-৪-৪-৮ পয়েন্ট গুলি মনে রেখে আমরা প্রতিরোধযোগ্য অকাল মৃত্যু গুলি ঠেকিয়ে দিই।

আট

গর্ভবতী (Pregnant) মায়েদের ৮টি প্রধান বিপদচিহ্ন—

১. গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে বা প্রসবের পরে শরীরে পানি আসা।
২.গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে বা প্রসবের পরে ব্লাডপ্রেসার বেড়ে যাওয়া। (নিয়মিত প্রেশার চেক করাটা জরুরি।)
৩. খুব বেশি মাথা ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা।
৪. খিঁচুনি হওয়া।
৫. গর্ভাবস্থায় রক্তস্রাব- তা যত সামান্যই হোক।
৬. প্রসবের সময় বা পরে বেশি রক্তপাত। গর্ভফুল (Placenta) না পড়া।
৭. দীর্ঘস্থায়ী প্রসব ব্যথা (ব্যথা ১২ ঘণ্টার বেশি থাকা)
৮. ভীষণ জ্বর: গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর ৩ দিনের বেশি জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব।

চার

গর্ভকালীন সময়ে বাহ্যিক কোনো সমস্যা থাকুক আর না থাকুক কমপক্ষে চার বার চেক-আপ—

১ম চেক-আপ: যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
২য় চেক-আপ: গর্ভধারণের ৬ মাসের সময় (সঙ্গে টিটেনাসের টীকা)।
৩য় চেক-আপ: গর্ভধারণের ৮ মাসের সময়।
৪র্থ চেক-আপ: গর্ভধারণের ৯ মাসের সময়।
(প্রতিবার চেকআপের সময় বাচ্চার অবস্থা দেখা ছাড়াও মায়ের রক্তচাপ, প্রস্রাব, রক্তশূন্যতা, রক্তের সুগার দেখতে হয়)।

চার

দিনে অন্তত: চার বার সুষম খাবার খেতে হবে

চার

চারটি 'দেরি' মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ—

১. বিপদচিহ্ন বুঝতে দেরি।
২. সিদ্ধান্ত নিতে দেরি।
৩. জরুরি মুহূর্তে যানবাহন পেতে দেরি (গ্রামীণ পরিবেশে)।
৪. সেবাকেন্দ্রে সেবা পেতে দেরি।

চার

প্রসবের পর চারবার চেক-আপ—

১ম চেক-আপ: প্রসবের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।
২য় চেক-আপ: প্রসবের ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে।
৩য় চেক-আপ: প্রসবের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে।
৪র্থ চেক-আপ: প্রসবের ৪২ দিনের মাথায়।

আট

নবজাতকের (০ থেকে ২৮ দিন) আটটি বিপদচিহ্ন—

১. দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা বুকের খাঁচা দেবে যাওয়া।
২. খিঁচুনি।
৩. জ্বর বা শরীর ঠান্ডা হওয়া।
৪. মায়ের দুধ টানতে না পারা বা না চোষা।
৫. নেতিয়ে পড়া।
৬. নাভিতে ইনফেকশন (নাভি পেকে যাওয়া)।
৭. জন্মের সময় ওজন ২কেজির (২০০০গ্রাম) কম।
৮. জন্মের পরপর কান্না না করা বা বিলম্বে কান্না করা।

ফুটনোট

ক. আগে থেকেই চিকিৎসক বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ প্রসব সেবাদানকারীর এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান/হাসপাতাল/ক্লিনিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।

খ. রক্তের গ্রুপ জেনে রাখুন এবং প্রয়োজনে রক্তের জন্য আত্মীয়স্বজনদের তৈরি রাখুন।

গ. প্রয়োজনের সময় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ও সঙ্গ দেওয়ার জন্য স্বজন ও সাথি ঠিক করে রাখুন।

ঘ. প্রসব ব্যবস্থাপনা, জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনে আলাদাভাবে অর্থ যুগিয়ে রাখুন যাতে সংকটের সময়ে টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় নষ্ট না হয়।

ঙ. গর্ভকালীন চেক-আপের সময়েই প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন এবং সিদ্ধান্ত নিন।

চ. প্রসবের সঙ্গে সঙ্গেই IUD, ইমপ্লান্ট, টিউবেকটমি, শুধুমাত্র প্রজেষ্টেরন সমৃদ্ধ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (Progesterone only pill) গ্রহণ করা যায়।

ছ. চিকিৎসক/প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ প্রসব সেবাদানকারীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহে রাখুন।

জ. বিশেষ করে গর্ভবতী (Pregnant) মায়েদের ৮টি প্রধান বিপদচিহ্ন মনে রাখা ও দ্রুত চিকিৎসককে জানানো ভীষণ জরুরি। এ সচেতনাটুকু জীবন ও মৃত্যুর মাঝে পার্থক্য গড়ে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত