গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম খলিলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধভাবে প্রায় দেড় কোটি টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুদকের সংবলিত জেলা কার্যালয় গাজীপুরের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার এ মামলার বাদী। তিনি কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমোদন পেয়ে গত ২৫ জুন মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে ঘটনার সময়কাল হিসেবে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. ইব্রাহীম খলিল অবৈধভাবে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনপূর্বক দখলে রাখা এবং একজন সরকারি নির্ধারিত বেতনভুক্ত কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তার বেতন-ভাতার বাইরে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ উৎস আড়াল করার অসৎ উদ্দেশ্যে তার অবৈধ আয়ের প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করেন। ইব্রাহীম খলিল এবং তার মেয়ে ইশরাত জাহান ইশার নামে ২ কোটি ৮৭ লাখ ২৪ হাজার ৬০২ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। এর মধ্যে মো. ইব্রাহীম খলিল ও তার মেয়ে ইশরাত জাহান ইশার (ওই সময়ে তৃতীয় বর্ষের মেডিকেলের ছাত্রী ছিল) নামে ২০২০ সালে ১ কোটি ১১ লাখ ৫৪ হাজার ১৫০ টাকার সম্পদ কেনেন। ইব্রাহীম খলিলের নিজ নামসহ মেয়ে ইশরাত জাহান ইশার নামে কেনা ২ কোটি ৮৭ লাখ ২৪ হাজার ৬০২ টাকার সম্পদের মধ্যে আয়কর নথিতে ১ কোটি ৪০ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৫ টাকার স্থাবর সম্পদ প্রদর্শন করেছেন। দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে ইব্রাহীম খলিলের নিজ নামসহ তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে অর্জিত অস্থাবর সম্পদের মধ্যে গাজীপুর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী বহুমুখী সমবায় সমিতির শেয়ার বাবদ ২ লাখ টাকা, গাড়ী নং-ঢাকা মেট্রো ৪৫-৫৩৮৮ বাবদ ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র বাবদ ৫০ লাখ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, গাজীপুর শাখায় ডিপিএস হিসাবে জমা ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৮২৫ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড গাজীপুর শাখার দুটি হিসাবে জমা ২ কোটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮৮ টাকা ও হাতে ৪০ লাখ টাকাসহ মোট ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৫২ হাজার ২৮০ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। তিনি একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী। বেতন-ভাতার বাইরে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জমা ও জমা-পরবর্তী উত্তোলন করেন, যা অস্বাভাবিক, সন্দেহজনক ও অবৈধ অর্থের লেনদেন বলে পরিলক্ষিত হয়।
