‘চিকিৎসকদের আটকে স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা’

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৩, ০২:৫৬ এএম

তদন্তের আগেই চিকিৎসকদের ফৌজদারি আইনে আটক বা গ্রেপ্তার করলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি সম্প্রতি রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, তদন্তের পর কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু তার আগেই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। এতে রোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ মামলা বা গ্রেপ্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক।

গতকাল বুধবার বিএসএমএমইউয়ে অনুষ্ঠিত ‘গর্ভাবস্থায় ও প্রসবকালীন জটিলতা কীভাবে কমিয়ে আনা যায়?’ শীর্ষক মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনারে উপাচার্য এসব কথা বলেন। এ সময় সেন্ট্রাল হাসপাতালের ওই ঘটনা অনেকটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য। তিনি চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন আপগ্রেড করে রাখার পরামর্শ দেন।

সেমিনারে উপাচার্য বলেন, দেশে সন্তান প্রসবে সিজারিয়ান অপারেশনকে একটি নির্দিষ্ট প্রটোকল ও সিস্টেমের মধ্যে আনতে হবে। গর্ভবতী মা ও তার সন্তানের অবস্থা বুঝে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত দেবেন যে সিজার করা হবে না নরমাল ডেলিভারি। আগেভাগে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের মা ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. শিউলী চৌধুরী মিডওয়াইফদের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিশ্চিত করা, যথাযথ রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা ও চিকিৎসার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অপর প্রবন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিটোম্যার্টানাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দা সাঈদা বলেন, প্লাসেন্টা অ্যাক্রেটা ডিসঅর্ডার হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার অন্যতম। এর ফলে গর্ভফুল প্রায়শই জরায়ুর নিচের দিকে অবস্থান করে এবং খুব গভীরভাবে জরায়ুর দেয়ালে মাংসপেশী ভেদ করে ঢুকে যায়। ফলে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা ডেলিভারি করার প্রয়োজন হয় এবং গর্ভফুল আলাদা হওয়ার সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। যেসব মায়ের আগে সিজার হয়েছে এবং এই সমস্যায় রয়েছে তাদের ঝুঁকির মাত্রা আরও বেশি।

সেক্ষেত্রে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা যেমন অনিবার্য, তেমনি অপারেশনের সময় প্রয়োজন সুদক্ষ অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত